কেন্দ্রের দেওয়া বিনামূল্যে ভ্যাকসিনকে ‘টিকাশ্রী” প্রকল্প ! ধন্যবাদ চিঠিতে লেখা ভ্যাকসিন তিনি পাঠিয়েছেন!

আজ সকাল সাড়ে দশটার সময় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোটা দেশে স্বদেশী করোনা ভ্যাকসিনের প্রদানের অভিযান শুরু করেন। এর প্রস্তুতি হিসেবে 15 জানুয়ারিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং 16 জানুয়ারি থেকে গোটা দেশে ভ্যাকসিন দেওয়া আরম্ভ করা হয়। 

দেশের 3 কোটি করোনা যোদ্ধাদের সবার আগে টিকা নেওয়ার অধিকার পাবে অর্থাৎ যারা ফ্রন্টলাইন ছিলেন যারা করোনা পরিস্থিতিতে লড়াই করেছেন যেমন হাসপাতাল কর্মী, ডাক্তার, সাফাই কর্মী, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জড়িত বিভিন্ন কর্মী, সহ  ভারতীয় সেনা, প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিগণ ইত্যাদি। 

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে আবেদন করেন, ভ্যাকসিন বর্তমান দেওয়া হচ্ছে বলে কেউ বেপরোয়াভাবে মাক্স না লাগিয়ে চলবেন না কারণ ভ্যাকসিন দেওয়ার মানে এই নয় যে করোনা চলে গেছে। সকলকেই এখনও করোনা  বিধি মেনে চলতে হবে। আজ সকাল বেলা থেকেই পশ্চিমবঙ্গে করোনা বিধি মেনে টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সবার প্রথম ভ্যাকসিন নেন SSKM হাসপাতালে কর্মী। হাসপাতালে গ্রুপ-ডি কর্মী রাজা চৌধুরীর শরীরে করোনার ভ্যাকসিন প্রথম দেওয়া হয়। প্রথম দফাতে রাজ্যে 20 হাজার 700 জনকে এই টিকা দেওয়া হবে। 

এদিকে আবার প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের ফেলে রাজ্যের বিধায়ক পঞ্চায়েত সদস্য বিডিও করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারমধ্যে আবার রাজ্যের এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনার টিকা দেওয়ার পর রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি ধন্যবাদ চিঠি দেওয়া হয়।  সেই ধন্যবাদ চিঠিতে লেখা আছে "আমাদের সরকার রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কাছে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।" এই চিঠি নিয়ে বিতর্ক ! 

এই নিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয় টুইট করে বলেন যেখানে কেন্দ্র গোটা দেশকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। আর সেই যোজনায় পশ্চিমবঙ্গেও বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মমতাজি নিজের ছবি লাগানো চিঠিতে বলছেন যে, ভ্যাকসিন তিনি পাঠিয়েছেন। আমার হিসেবে এর থেকে বড় মিথ্যে আর কিছুই হতে পারে না। নির্লজ্জতার সমস্ত সীমা পার হয়েছে।”

বঙ্গবাসীর কাছে বিনামূল্যে করোনার টিকা পৌঁছে দিতে চায় রাজ্য সরকার, এমনটাই জানান হয়েছে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্তাদের লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর সরকার রাজ্যবাসীর কাছে বিনামূল্যে টিকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। আর এই সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে নয়া বিতর্কের।

আর অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন মুখ্যমন্ত্রী ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি করে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের দেওয়া বিনামূল্যে ভ্যাকসিনকে ‘টিকাশ্রী” প্রকল্প বলে চালিয়ে দেবেন। এদিন পুরুলিয়ার সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, “কেন্দ্র সরকারের প্রতিটি প্রকল্পের নাম বদল করেছে রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাকে বাংলা আবাস যোজনা বানান হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করতেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন চিঠি দিয়ে জানালেন উনি নাকি বিনামূল্যে টিকা দেবেন। এরপরই কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, ভুল করে আবার একে টিকাশ্রীর নাম দিয়ে আবার নিজের নামে চালিয়ে না দেন, এটাই ভাবছি।”


নবীনতর পূর্বতন