Shyama prasad Mukherjee : জাতীয়তাবাদী আদর্শের অগ্রদূত ছিলেন । শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী - জেপি নাড্ডা

শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী

দেশের একতা এবং  অখণ্ডতার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ত্যাগের ফল তখনই পেয়েছিল যখন দেশ থেকে সংবিধানের  ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছিল

Shyama Prasad Mukherjee mystery

দেশের একতা এবং  অখণ্ডতার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ত্যাগের ফল তখনই পেয়েছিলাম যখন দেশ থেকে সংবিধানের  ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছিল। তিনি এই বিচারাধারার প্রবল সমর্থক ছিলেন যে সাংস্কৃতিকভাবে আমরা সবাই এক। আমি ভারতবর্ষের এই মহান সু-পুত্রের সর্বোচ্চ ত্যাগকে প্রণাম জানাই।

shyama prasad mukherjee death mystery ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
 শ্রী জেপি নাড্ডা বিজেপি সর্ব ভারতীয় সভাপতি  

জাতীয়তাবাদের আদর্শের জন্য, দেশের একতা এবং  অখণ্ডতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাজনৈতিক বিকল্পে বীজ রোপণের জন্য, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ইতিহাসে যদি কোনও একজন রাজনীতিবিদকে স্মরণ করা হয় তবে তিনি  হলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। অবশ্যই ডঃ  মুখার্জী স্বাধীনতার পরে বেশি দিন বাঁচেননি, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতির বড় ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

ডঃশ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ছিলেন যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যাটিকে বুঝতে পেরেছিলেন 


শ্রী জেপি নাড্ডা
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীই ছিলেন যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যাটি বুঝতে পেরে  এবং এর সম্পূর্ণ সমাধানের জন্য শক্ত ভাবে তার জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন। বাংলার বিভাজনের সময় যদি কেউ ভারতের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ায়ে ছিলেন, তিনি ছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী স্বাধীনতার পরে ক্ষমতায় আসা কংগ্রেস কর্তৃক এই দেশটিতে ভারতে আরোপিত এবং আমদানি করা মতাদর্শকে যৌক্তিকভাবে বিরোধিতা করে তিনি ভারত, ভারতীয় ও ভারতীয়তার ধারণাগুলি অনুসারে দেশকে রাজনৈতিক বিকল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম পথিক  ছিলেন।


নেহেরু-লিয়াকত চুক্তিতে হিন্দু স্বার্থের অবহেলা দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন

স্বাধীনতা-পরে নেহেরু সরকারে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে  শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী করা হয়েছিল। তিনি ভারত সরকারের অংশ ছিলেন, তবে একই সাথে কংগ্রেস সরকার কর্তৃক নেহেরু-লিয়াকত চুক্তিতে হিন্দু স্বার্থের অবহেলার কারণে তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগও করেছিলেন। এই পদত্যাগ তাঁর উচ্চ আদর্শিক চেতনার জীবন্ত প্রমাণ দেয়।  অসামঞ্জস্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ক্ষমতায় থাকা তাঁর পক্ষে গ্রহণযোগ্য ছিল না কোনদিন । তাই তিনি পদত্যাগ করে তিনি দেশে নতুন আদর্শিক রাজনৈতিক বিকল্পের জন্য আলোচনা শুরু করেছিলেন। জানা যায় যে দেশের স্বাধীনতার জন্য বিভিন্ন মতের ব্যক্তিগণ কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় এসেছিলেন, কিন্তু স্বাধীনতার পরে দেশে এমন গুঞ্জন ছিল যে কংগ্রেসের আদর্শের বিকল্প হতে পারে কী? দেশ এমন একটি আদর্শের সন্ধান করছিল, যেখানে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ হল দেশের একতা এবং  অখণ্ডতার সংকল্প নিয়ে তুষ্টিকরন বিরোধিতার নীতি হবে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই বিতর্কের প্রমুখ  হিসাবে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলে ১৯৫১ সালের ২১ শে অক্টোবর জনসঙ্ঘ গঠন হয়। এমন একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা হয় , যাহার ধারণাতে ছিল জাতীয়তাবাদের সুবাস এবং ভারতীয়তার সুগন্ধ। বিগত  কয়েক দশক ধরে, আমরা একই লড়াইয়ের বহু পর্যায় অতিক্রম করে বহু সংগ্রাম করে আজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি।


প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসংঘ 3 টি আসন জিতেছিল, বহুদল একসাথে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করেছিল


ভারতে 1951-52 সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে, জনসংঘ তিনটি আসনে জয়লাভ করেছিল। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী  কলকাতা শহর থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে পৌঁছেছিলেন। তাঁর মতামতের স্বচ্ছতা, নীতির দূরদর্শিতা দেখে অনেক বিরোধী দল মিলে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত করে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ক্রমাগত দেশের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং খুব অল্প সময়েই তিনি বিরোধীদের সোচ্চার কণ্ঠে পরিণত হয়েছিলেন। সংসদে তিনি সর্বদা তার প্রথম লক্ষ্য হিসাবে জাতীয় একতার প্রতিষ্ঠা রেখেছিলেন। সংসদে তার বক্তব্যে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন যে সোনার ভবিষ্যতের ভিত্তি কেবল জাতীয় একতার ভিত্তিতেই স্থাপন করা যেতে পারে।


মুখার্জি অনুচ্ছেদ 37০, পারমিট সিস্টেমকে দেশের একতা এবং অখণ্ডতায় বাধা হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন।

জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পারমিট ব্যবস্থাটিকে দেশের একতা এবং  অখণ্ডতার বাধা হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। তারজন্য তিনি সংসদে বহুবার আওয়াজ তোলেন। ১৯৫২ সালের ২৬শে জুন লোকসভায় জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত আলোচনায় তিনি বলেছিলেন যে গণতান্ত্রিক ফেডারেল রাজ্যে কোনও সংবিধানের সত্তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অন্য কোন সত্তার নাগরিকের চেয়ে আলাদা কীভাবে হতে পারে? তিনি দেশের  একতা এবং  অখণ্ডতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। পারমিট পদ্ধতির বিরোধিতা করে তিনি অনুমতি না নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের আগস্টে জম্মুতে এক বিশাল সমাবেশে তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন যে, 'হয় আমি আপনাদের ভারতীয় সংবিধান প্রাপ্ত করাব  বা এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।' জম্মু প্রবেশের সাথে সাথেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল তারজন্য সারা দেশে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। তারপর ১৯৫৩ সালের ২৩ শে জুন, গ্রেফতারের ৪০ দিন পরে ভারত মায়ের মহান পুত্র ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী শ্রীনগরের সরকারী হাসপাতালে এক রহস্যজনকভাবে মারা যান। তাঁর আত্মবলিদান নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু তত্কালীন নেহেরু সরকার তাঁকে উপেক্ষা করেছিলেন।ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মা যোগমায়া দেবী নেহেরুর কাছে তদন্তের দাবিতে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাঁহাকেও সরকার উপেক্ষা করেছিল। তাঁর গ্রেপ্তার, তাঁর আটকে রাখা এবং তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা এখনও অমীমাংসিত।


ডঃ মুখার্জী বলতেন -এক দেশে  দুটি আইন, দুটি বিধান , দুটি চিহ্ন চলবেনা।

images under creative commons license

ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বলতেন, 'এক দেশে  দুটি আইন, দুটি বিধান , দুটি চিহ্ন চলবেনা' এই স্লোগান জনসংঘ এবং পরবর্তী বিজেপির প্রতিটি কর্মীর সংকল্প বাক্যে পরিণত হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে এই প্রশ্নটি মানুষের মনে রয়েছে যে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর এক দেশ, একটি আইন, একটি প্রধান, একটি চিহ্নের স্বপ্ন কখন কি বাস্তব হবে? ইহা ছিল একটি আদর্শ ভিত্তিক যুদ্ধ। এতে একদিকে ছিল কংগ্রেস সহ তুষ্টির রাজনীতির সাথে জড়িত অনেকগুলি দল আর  অন্যদিকে নিজের ধারণা এবং সংকল্প নিয়ে বিজেপি অবিচলি ছিল, যা প্রথম থেকেই ছিল অনুচ্ছেদ ৩৭০ অপসারনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনসংঘের সময় হোক বা বিজেপি গঠনের সময়, আমাদের আদর্শ ও নীতিতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দক্ষ নেতৃত্ব এবং দৃঢ়  ইচ্ছা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কৌশলগুলির কারণে অগাস্ট 2019 সালে  অনুচ্ছেদ 370 চিরতরে বাতিল করা হয়েছিল। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী স্বপ্ন দেখেছিলেন এক দেশ, একটি আইন, একটি  প্রধানের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী মোদী উপলব্ধি করেছিলেন।


ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর বলিদান তখন সফল হয়েছে যখন দেশ থেকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা বাতিল হয়েছিল। 

দেশটির একটা এবং অখণ্ডতার জন্য ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সর্বোচ্চ ত্যাগের বিষয়টি তখন ফলস্বরূপ প্রকাশিত হয় যখন দেশ থেকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা বাতিল হয়েছিল। বিচারাধারার প্রতি অনুগত এবং অবিচল একটি দল ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাহা  কয়েক দশক ধরে তার ধারণা এবং  সঙ্কল্পের প্রতি বিশ্বস্ত ও অবিচল আছে। তিনি দেশের জন্য আত্ম বলিদান দিয়েছিলেন এবং ভারতবর্ষ  এমন একজন ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছিল যিনি দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দিশা দিতে পারতেন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই ধারণার প্রবল ভাবে সমর্থক ছিলেন যে সাংস্কৃতিক দৃষ্টিতে আমরা সবাই এক। আমি ভারতবর্ষের এই মহান পুত্রের সর্বোচ্চ বলিদানেরকে প্রণাম জানাচ্ছি।


(লেখক ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি)

প্রকাশিত মতামত ব্যক্তিগত

Read Now.

শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী : স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী - স্বামী বেদানন্দ 

আপনার লেখা মনের লেখা লিখুন আমাদের সাথে The Point বাংলার সাথে। গ্লপ, কবিতা, রাজনীতি , রম্য রচনা, অর্থনীতি, সমাজনীতি , আপানার নিজের লেখা আমাদেরকে পাঠাতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন আমরা মুক্ত চিন্তন নয়, দিব্য জ্ঞান নয়- কাণ্ড জ্ঞান চাই।
আমাদের Email ID - thepointbangla@gmail.com

WebSite - https://www.pointbangla.com/
লেখার সাথে আপনার নাম , ফটো , পরিচয় দিয়ে পাঠাবেন। লেখা প্রকাশিত হলে আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ফেইসবুক-টুইটার-ইউটিউব এ দেখতে পারবেন।

নবীনতর পূর্বতন