Exclusive : বুদ্ধিজীবীদের করাল গ্রাসে পশ্চিমবঙ্গ শেষ - বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ

যারা বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল রাজনীতি বোঝেন। তারা ওনার ঘৃণ্য রাজনীতি নিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করুন - সৌমিত্র খাঁ

বলতে বাধ্য হচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ খুবই করুন। যদি কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে এই রাজ্যকে বাঁচানোর তাগিদ অনুভব করে তবেই নিষ্কৃতি। নচেৎ আমাদের নবপ্রজন্মকে ভিনরাজ্যে অসম্মানজনক কাজে পাঠিয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে হবে এটাই ভবিতব্য।

লেখক - বিজেপি নেতা এবং সাংসদ শ্রী সৌমিত্র খাঁ
আমাদের রাজ্যে হঠাৎ একটা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। গতকাল থেকে অনেকেই অনেক কিছু বলছেন। এমন কি বিশেষজ্ঞের মতামতও দিচ্ছেন। আমি একজন অতি সাধারণ। আমার নিজস্ব মতামত এখন আমি সকলের সামনে ব্যক্ত করবো।
যারা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বোঝেন না, তারা অনেক বিশেষজ্ঞের মতামত দেবেন। পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যেখানে নাকি সারা বছর ধরে রাজনীতি হয়। আমি একেবারে খোলাখুলি বলছি। সারা বছর ধরে রাজনীতির নামে এখানে যেটা হয় তার নাম শাসকের পদলেহন। সবটাই সুবিধা পাবার ধান্দা। বামফ্রন্ট তার ৩৪ বছরের শাসনে বাঙালি নামক এক বুদ্ধিহীন চরম সুবিধাবাদী জাতির জন্ম দিয়ে গেছে।
একটু অতীতে ফিরে যাবো। যতদিন কেন্দ্রেও কংগ্রেস রাজ্যেও কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গ তরতর করে এগিয়েছে। সারা ভারত হিংসা করতো আমাদের রাজ্যকে। কাজের খোঁজে ভিনরাজ্য থেকে আমাদের রাজ্যে আসতো। এখন সময় বদলে গেছে। আমরা ভিনরাজ্যে যাই। গর্ব করে বলি, আমার ছেলে ভাইজ্যাগে, ব্যাঙ্গালোরে, পুনেতে আছে। এটাই তো আমাদের Achievement !!
কেন এমন হল? যতদিন কেন্দ্রে রাজ্যে এক সরকার আমরা এগিয়েছি। ১৯৭৭ সালের পর থেকে ৩৪ বছর আমরা কেন্দ্রবিরোধী বিপ্লবী সেজে রাজ্যে কেন্দ্রবিরোধী সরকার উপহার দিয়েছি। কেন দিয়েছি? কারণ বামফ্রন্ট তথা সিপিএম আমাদের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিয়েছিল আমাদের সমর্থন করলে তোমরা সব সুবিধা পাবে। আর যারা বিরোধিতা করবে তারা ঘরছাড়া হবে। বামফ্রন্টের সেই ৩৪ বছরের অত্যাচার সহ্য করেও যারা বামফ্রন্টকে সমর্থন করেনি, তারাই প্রকৃত রাজ্যের ভালো চেয়েছিল। তারপরে তৃণমূলের দশ বছর! আরও কদর্য জায়গায় পৌঁছে গেছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আছে শুধু কামানোর রাজনীতি। যেটা শাসকদল ছাড়া সম্ভব নয়। যাদের নিজ যোগ্যতায় কামানো একপ্রকার অসম্ভব। স্বাভাবিক রাজ্যের স্বার্থের থেকে তাদের কাছে কামানোর জন্য শাসকদলে নাম লেখানোর প্রবনতা বাড়বেই। আজ পশ্চিমবঙ্গ তার রাজনীতিতেও সেই খেসারত দিচ্ছে।


অনেককে মন্তব্য করতে শুনছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিচক্ষনতা এতটাই বেশি, তিনি মুকুল রায়কে দলে নিয়ে বিজেপির মধ্যে বিভাজন করে দিলেন। শুভেন্দুকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। তাদের বলবো, আপনারা ওই রাজনীতি খুঁজতে থাকুন। আর তাতে আত্মপ্রসাদ লাভ করুন। ১৯৭৭ সালের পরে একমাত্র ১৯৮৪ সাল ছাড়া কংগ্রেস কোনোদিন এইরাজ্যে চারটির বেশি সাংসদ পায়নি। তাতে কেন্দ্রে কংগ্রেসের সরকার গঠন করতে কোনও অসুবিধা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের কী লাভ হয়েছে? তোমরা কংগ্রেসকে দেখোনি আমরাও তোমাদের দেখবো না। সব গুন থাকা সত্ত্বেও আমরা আজ ভিখারি। আমরা গর্বিত আমরা বাঙ্গালি। সারা দেশ যেদিকে চলে আমরা তার উল্টোদিকে চলি। অথচ যতদিন কেন্দ্রে রাজ্যে কংগ্রেস ছিল আমরা দেশে এক নম্বর ছিলাম। সেই পরিসংখ্যায়ন আমরা ভুলে গেছি। আজও তাই একইভাবে কেন্দ্র বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে একটা আসনও না পায়। এইমুহুর্তে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বলছে ২০২৪শে আবার বিপুল গরিষ্ঠতায় বিজেপির সরকার হবে। তাতে পশ্চিমবঙ্গের কী লাভ হবে? লবডঙ্কা। কংগ্রেসের যতদিন উত্তর ভারত, দক্ষিন ভারত সাথে ছিল। দিল্লীতে সরকার গড়তে কংগ্রেসের কোনও অসুবিধা হয়নি। আজ নেই কংগ্রেসও নেই। দিল্লীর রাজনীতিতে এইমুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গ কোনও উৎপাদক বা ফ্যাক্টর নয়।

যারা বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল রাজনীতি বোঝেন। তারা ওনার ঘৃণ্য রাজনীতি নিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করুন। আর বোধোদয় থাকলে মনে মনে ভাবুন আপনার পরবর্তী বংশধর কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? দুই দিন আগে আমি একটি টোটোয় চড়েছিলাম। চালকের হাবভাব দেখে কৌতুহল হওয়ায় জানতে চাই তুমি কি গ্রাজুয়েট? জবাব দিল আমি বি-টেক ইলেকট্রনিক্স। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রবিরোধী রাজনীতি করে এই জায়গায় পৌঁছে গেছে। কেন অভিভাবকরা রাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে না? ছাত্র যুবরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে পারে না কেন? না পারে না। আসলে এখন আমরা শাসকের সুবিধাভোগী গোষ্ঠিতে নাম লিখিয়ে ফেলেছি। মুকুল রায়ও তাই আবার তৃণমূলে ফিরে গেছেন। ছেলের কামানোর ভবিষ্যৎ তার কাছে রাজ্যের স্বার্থর থেকে অনেক বড় হয়ে গেছে। এটাতেই আবার অনেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল পলিটিক্যাল ম্যাচুইরিটি খুঁজে পেয়ে গেছেন।


আমার অনেক তেলেগু বন্ধু আছে। তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তারা বললো অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডু শেষ। জগনের প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। পরের বিধানসভা নির্বাচনে কী ফলাফল হবে বলা মুশকিল। অন্ধ্রবাসী বুঝে গেছে রাজ্যের উন্নয়ন না হলে রাজ্যবাসীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কেন্দ্র বিরোধিতা করে রাজ্যের উন্নয়ন অসম্ভব। আমরা সচেতন বাঙালি ৪৯ বছরেও এই সত্যটা উপলব্ধি করতে পারলাম না। আমাদের নেত্রী আমাদের গর্ব।
পরিশেষে বলতে বাধ্য হচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ খুবই করুন। যদি কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে এই রাজ্যকে বাঁচানোর তাগিদ অনুভব করে তবেই নিষ্কৃতি। নচেৎ আমাদের নবপ্রজন্মকে ভিনরাজ্যে অসম্মানজনক কাজে পাঠিয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে হবে এটাই ভবিতব্য।


NOTE -২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস ( পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির এক কালো অধ্যায় বহুল গেলে চলবে না ) আসছে লেখা।

Read More.

শেয়ার করুন এবং নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন
নবীনতর পূর্বতন