দীনেশ চন্দ্র গুপ্তের শেষ চিঠি | বিনয় বাদল দীনেশ স্মরণীয় কেন ? Binoy Badal Dinesh history in bengali

 Binoy Badal Dinesh history in bengali 

 দীনেশ চন্দ্র গুপ্তের জীবনী এবং বিনয় বাদল দীনেশ স্মরণীয় কেন ?

Binoy Badal Dinesh history in bengali

দীনেশ চন্দ্র গুপ্তের জীবনী 

Binoy Badal Dinesh history in bengali : দীনেশচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন স্বনামধন্য বাঙালি বিপ্লবী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তিনি দীনেশ গুপ্ত নামে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের ঢাকা ভারতের মেদিনীপুরে একটি শক্তিশালী বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। ভারতের মেদিনীপুরে তাঁহার গঠিত সংগঠন পরপর তিন জন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে হত্যা করেছিল এবং বিপ্লবী কার্যে জন্য ব্রিটিশ ভয় পেয়ে গেছিল ডিসেম্বর, ১৯১১সালে এই স্বনামধন্য বাঙালি বিপ্লবী দীনেশচন্দ্র গুপ্ত জন্ম নিয়ে ছিলেন। ঢাকার বিক্রমপুরের যশোলং গ্রামে ১৯১১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবা সতীশচন্দ্র গুপ্ত ও মা বিনোদিনীদেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।   ১৯৩০ সালের ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসুর নেতৃত্বে তিনি বাদল গুপ্ত বর্তমান কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং (বা মহাকরণ ভবন) ভবনে অভিযান চালিয়ে  অত্যাচারী ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে হত্যা করেন। রাইটার্স বিল্ডিং-এর অলিন্দে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের খণ্ডযুদ্ধে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ইউরোপীয় কর্মচারী গুরুতরভাবে আহতও হয়েছিল। এরপর তাঁরা তিন বাঙালি বিপ্লবী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই বিপ্লবী আত্মহত্যায় সমর্থ হলেও মৃতপ্রায় দীনেশচন্দ্র গুপ্তকে পুলিশ বাঁচিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। বিচারে দীনেশচন্দ্র গুপ্তের ফাঁসির আদেশ হয়। 

দীনেশ চন্দ্র গুপ্তের শেষ চিঠি

মৃত্যুর পূর্বে জেলে বসে দীনেশচন্দ্র গুপ্ত কয়েকটি চিঠি লিখেছিলেন। এই চিঠিগুলি ভারতের বিপ্লবী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং সাহিত্যিক বিচারেও অত্যন্ত মূল্যবান চিঠি বলা এতে পারে এই চিঠির মধ্যে ফাঁসির সাতদিন আগে  রাতের বেলায় তাঁহার মায়ের উদ্দেশ্যেে কিছু কথা তিনি  একটি চিঠিতে লিখেছিলেন। যে চিঠি মৃত্যুর ভয়াবহতাকে হার মানিয়ে দিতে পারে। চিঠিতে তিনি লিখলেন-

 "মা,

 যদিও ভাবিতেছি কাল ভোরে তুমি আসিবে, তবু তোমাকে না লিখিয়া পারিলাম না৷ তুমি হয়তো ভাবিতেছ, ভগবানের কাছে এত প্রার্থনা করিলাম, তবুও তিনি শুনিলেন না! তিনি নিশ্চয় পাষাণ, কাহারও বুক-ভাঙা আর্তনাদ তাঁহার কানে পৌঁছায় না। 

 ভগবান কি, আমি জানি না, তাঁহার স্বরূপ কল্পনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু তবু একথাটা বুঝি, তাঁহার সৃষ্টিতে কখনো অবিচার হইতে পারে না। তাঁহার বিচার চলিতেছে। তাঁহার বিচারের উপর অবিশ্বাস করিও না, সন্তুষ্ট চিত্তে সে বিচার মাথা পাতিয়া নিতে চেষ্টা কর। কী দিয়া যে তিনি কী করিতে চান, তাহা আমরা বুঝিব কী করিয়া

মৃত্যুটাকে আমরা এত বড় করিয়া দেখি বলিয়াই সে আমাদিগকে ভয় দেখাইতে পারে যেন ছোট ছেলের মিথ্যা জুজুবুড়ির ভয়৷ যে মরণকে একদিন সকলেরই বরণ করিয়া লইতে হইবে, সে আমাদের হিসাবে দুই দিন আগে আসিল বলিয়াই কী আমাদের এত বিক্ষোভ, এত চাঞ্চল্য?

 যে খবর না দিয়া আসিত, সে খবর দিয়া আসিল বলিয়াই কী আমরা তাহাকে পরম শত্রু মনে করিলাম? ভুল, ভুল-মৃত্যু 'মিত্র' রূপেই আমার কাছে দেখা দিয়াছে। আমার ভালোবাসা প্রণাম জানিবে।"

 

বিনয় বাদল দীনেশ স্মরণীয় কেন ?

১৯২৮ সালে কলেজে পড়া কালিন দীনেশচন্দ্র গুপ্ত  'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস'-এর কলকাতা অভিবাদনের আগে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের গঠিত 'বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সে যোগদান করেছিলেন খুবই তাড়াতাড়ি বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স একটি সক্রিয় বিপ্লবী সংগঠনে পরিবর্তিত হয় এবং  ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারদেরকে হত্যার সাথে  নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করে। আগ্নেয়াস্ত্র চালনা শেখানোর জন্য স্থানীয় বিপ্লবীদের ডাকে  দীনেশচন্দ্র গুপ্ত  কিছু সময় মেদিনীপুরেও ছিলেন।তাঁর প্রশিক্ষিত বিপ্লবীরা ডগলাস(Douglas), বার্জ(Burge) এবং পেডি(Peddy)--এই তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রটকে একসঙ্গে পরপর হত্যা করেছিল।

বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স জেলের ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল এন এস সিম্পসনকে টার্গেট করেছিল যিনি জেলের  বন্দীদের উপর পাশবিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিল। তাই বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তাঁরা শুধু সিম্পসনকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হবেন না, বরং কলকাতার ডালহৌসি স্কোয়ারে অবস্থিত ব্রিটিশ শাসকদের সচিবালয় রাইটার্স ভবনে আক্রমণ করে ব্রিটিশ অফিসদেড় মধ্যে একপ্রকার ত্রাস সৃষ্টি করবেন   দীনেশ তাঁর দুই সঙ্গী বিনয় বসু এবং বাদল গুপ্তসহ ইউরোপীয় পোশাকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন এবং সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর মাসে ঠিক তখনি  ব্রিটিশ পুলিশ গুলি শুরু করে।যার ফলশ্রুতিতে এই তিন বিপ্লবীর সাথে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়। সেই সময় ব্রিটিশদের মধ্যে টোয়াইনাম (Twynum), প্রেন্টিস(Prentice) এবং নেলসন(Nelson)-এর মত অন্য কিছু অফিসার গুলিতে আহত হয়। কিন্তু পুলিশ দ্রুতই তিননকে ধরে ফেলে। কিন্তু এই তিনজনের গ্রেফতার হওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না তাই ঠিক সেই সময় বাদল গুপ্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে নিয়েছিলেন, অন্যদিকে বিনয় এবং দিনেশ গুপ্তআত্মহত্যহত্যা করার জন্য নিজেদেরকেই গুলি করেছিলেন। তাই বিনয়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তিনি ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ (১৯৩০ সাল) মৃত্যুবরণ করেন।

কিন্তু দীনেশ গুপ্ত  কোনোরকমে বেঁচে ওঠেন। তাঁকে বিচারের জন্য মুখোমুখি করা হয়েছিল এবং বিচারের রায় ছিল সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং খুনের জন্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দেওয়া ১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই আলীপুর জেলে আজ থেকে প্রায় ৯০ বছর আগে  ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তাঁহার জেলে থাকাকালীন চিঠি পত্র ছিল অনুপ্রেরনা মূলক।

 বাংলাসহ ভারতের অন্যান্য অংশে বিনয়, বাদল এবং দিনেশকে শহীদ হিসেবে সম্মান করা হয়। তারপর স্বাধীনতার পর তাঁর তাঁর অপর দুই সহবিপ্লবীর সম্মানার্থে কলকাতার প্রসিদ্ধ ডালহৌসিতে লালদীঘির সহযোগে নাম বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ (BBD BAG ) রাখা হয়।

Read More.. 

শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী : স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী - স্বামী বেদানন্দ 

আপনার লেখা মনের লেখা লিখুন আমাদের সাথে The Point বাংলার সাথে। গ্লপ, কবিতা, রাজনীতি , রম্য রচনা, অর্থনীতি, সমাজনীতি , আপানার নিজের লেখা আমাদেরকে পাঠাতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন আমরা মুক্ত চিন্তন নয়, দিব্য জ্ঞান নয়- কাণ্ড জ্ঞান চাই।
আমাদের Email ID - thepointbangla@gmail.com

WebSite - https://www.pointbangla.com/
লেখার সাথে আপনার নাম , ফটো , পরিচয় দিয়ে পাঠাবেন। লেখা প্রকাশিত হলে আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ফেইসবুক-টুইটার-ইউটিউব এ দেখতে পারবেন।

নবীনতর পূর্বতন