শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী : স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী - স্বামী বেদানন্দ । Swami Pranabanandaji Maharaj and Shyamaprasad Mukherjee

শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী  

স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী

Swami Pranabanandaji Maharaj and Shyamaprasad Mukherjee

Swami Pranabanandaji Maharaj and Shyamaprasad Mukherjee


ভারত কেশরী ডঃশ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি


ব্রিটিশের সহিত  রাজনীতির পাশাখেলার মাধ্যমে ভারতীয় রাষ্ট্রনেতাদের পরাজয় ও বাঙালী জাতির আসন্ন মহা- বিপর্য্যয় ও মহামৃত্যু কীরূপে অবশ্যম্ভাবী হ‌ইয়া উঠিতেছিল, যার পরিনামে বাঙালী হিন্দুর অস্তিত্ব লোপের পরিস্থিতি ঘনীভূত হ‌ইয়া উঠিতেছিল, স্বীয় সর্ব্বদর্শী দৃষ্টিতে তাহা প্রত্যক্ষ করিয়া আচার্য্যদেব অস্থির হ‌ইয়া উঠিয়াছিলেন এবং সেই উদ্বেগ, আতঙ্ক ও প্রতিকার-চিন্তা- প্রচেষ্টায় তিনি আহার নিদ্রা বিশ্রাম ত্যাগ করিয়াছিলেন । এজন্য শেষ তিনটি বৎসর তিনি বাংলার প্রত্যেক নেতৃস্থানীয় ধনী ও পদস্থ ব্যক্তিগণের, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও কত্তৃপক্ষের কাছে গিয়া আকুল আবেদন জানা‌ইয়াছিলেন -- " আপনারা বুঝিতেছেন না, কিন্তু আমি দেখতে পা‌ইতেছি বাঙালী জাতি ধ্বংসোন্মুখ । এমনি সময় আসছে সামনে,  যখন বাঙালী জাতি পাগলের মত ছুটে বেড়াবে । মাথা গুঁজবার ঠাই পাবে না, পোকামাকড়ের মত পথে ঘাটে পরে মরবে । আপনারা আমার পেছনে দাঁড়ান । আমি বাঙালী জাতির রক্ষার একটা চেষ্টা করে যা‌ই ।"

আচার্য্যদেবের (স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ)  কথায় অনেকেই কাণ দেন নাই ; কেহ কেহ এক আধটু উদ্বেগ প্রকাশ করিলেও কার্য্যক্ষেত্রে অগ্রসর হন নাই । তথাপি, আচার্য্যদেব উপেক্ষিত, অবমানিত হ‌ইয়াও নেতাদের ও ধনী ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরিয়াছিলেন ।

১৯৪০ খৃষ্টাব্দ আগষ্ট মাস । আচার্য্যদেবের (স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ)  আদেশে সঙ্ঘের পক্ষ হ‌ইতে প্রতি বৎসরের মত সেবার‌ও কলিকাতা বালিগঞ্জে  শ্রীশ্রী‍ঁ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিরাট হিন্দু সম্মেলনের  আয়োজন করা হয় । এই সম্মেলনের উদ্বোধন কর্ত্তা ছিলেন স্যার মন্মথনাথ মুখার্জি, সভাপতি নির্বাচিত হ‌ইয়াছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ।

সম্মেলনের পাঁচদিন পূর্ব থেকে আচার্য্যদেবকে বড় বেশী উদ্বিগ্ন দেখা যা‌ইতে লাগিল । তখন তাঁহার আতঙ্কের ভাবটি সম্যক্ উপলব্ধি হয় নাই । পরে বুঝিয়াছিলাম যে আসন্ন মহাধ্বংসের বিভীষিকা হ‌ইতে বাংলা ও বাঙালী জাতির রক্ষার আকুল আবেদনে যখন বাংলার কোন নেতা বা ধনী সাড়া দিলেন না, তখন তিনি মনে মনে শ্যামাপ্রসাদকেই স্বীয় সঙ্কল্প সাধনের মাধ্যম  নির্বাচন করিলেন ।

তিনি পর পর পাঁচদিন শ্যামাপ্রসাদকে আনিবার জন্য সঙ্ঘসন্তানগণকে প্রেরণ করিলেন । পাঁচদিন পর পর আশীর্বাদ দান ও শক্তি সঞ্চারের সঙ্কল্প ল‌ইয়া তিনি সিদ্ধাসনে ঘন্টার পর ঘন্টা সমাসীন রহিলেন । শ্যামাপ্রসাদও পর পর পাঁচদিন সন্ধ্যা সাতটার সময়ে আচার্য্যদেবের চরণে আসিবার কথা দিয়াও অত্যধিক কাজের চাপে আসিতে পারিলেন না । পরিশেষে লজ্জিত হ‌ইয়া তিনি বলিয়া পাঠাইলেন --" আমি কথা দিয়া কথা রক্ষা করিতে পারিতেছি না ; আমাকে ক্ষমা করিতে বলিবেন । সম্মেলনের দিন ছাড়া তাঁর দর্শনের সুযোগ আমার ঘটিবে না ।" এই কথা আচার্য্যদেবকে নিবেদন করিলে তিনি কিঞ্চিৎ বিষন্নতার সহিত নিরস্ত রহিলেন ।

জন্মাষ্টমী সম্মেলনের  দিন অপরাহ্ণ , পাঁচটার সময়ে আচার্য্যদেব সম্মেলন মণ্ডপের প্রবেশদ্বারের সন্মুখে রাসবিহারী এভিনিউয়ের উপর মোটরে বসিয়া রহিলেন । কিছুক্ষণ পরে শ্যামাপ্রসাদ আসিয়া পৌঁছিলে এক সাথে সভামণ্ডপে প্রবেশ করিলেন । মঞ্চের উপর উঠিয়া আচার্য্যদেব সহস্র সহস্র উৎসুক দর্শকের সন্মুখে স্বীয় কণ্ঠের  মাল্য উঠাইয়া শ্যামাপ্রসাদের গলদেশে পরা‌ইয়া দিয়া আশীর্ব্বাদপূর্ব্বক স্বীয় আসন গ্রহণ করিলেন । সম্মেলনান্তে আশ্রমে আসিয়া স্বীয় বিশ্রাম কক্ষে প্রবেশ করিলে আমি যখন তাঁর গায়ের জামাটা খুলিয়া দিতেছিলাম, তখন তিনি শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বলিলেন-- "বাঙালী হিন্দুর সামনে দাঁড়াবার লোক ঠিক করে      দিলাম ।"

অক্টোবর মাস কাশীধামে  সঙ্ঘের দূর্গাপূজার উৎসব- সম্মেলনের কয়েক দিন পূর্ব আচার্য্যদেব বলিলেন-- "শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে এস । সঙ্ঘ সন্তানগণ জিজ্ঞাসা করিলেন-- " শ্যামাপ্রসাদ কি এখন কাশীতে এসেছেন?" আচার্য্যদেব বলিলেন-- "হ্যাঁ, এসেছে, খুঁজে দেখ ।" খোঁজ করিতে করিতে দেখা গেল শ্যামাপ্রসাদ সপরিবারবর্গে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করিতেছেন । সন্যাসীরা গিয়া তাঁহাকে বলিলেন-- " স্বামীজী মহারাজ (স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ)  আপনাকে স্মরণ করেছেন, চলুন একবার আমাদের আশ্রমে ।" শ্যামাপ্রসাদ বলিলেন-- " মহাষ্টমীর দিন প্রাতে আমরা সকলে আশ্রমে গিয়া মায়ের চরণে অঞ্জলি দেব, স্বামীজী মহারাজেরও দর্শন করব, আশীর্বাদ নেব ।"

মহাষ্টমীর দিন প্রাতে সপরিবারবর্গে শ্যামাপ্রসাদ আসিলেন । মহা মায়ের চরণে অঞ্জলি নিবেদনপের্ব্বক একাকী আচার্য্যদেবের প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করিলেন । আচার্য্যদেবের সহিত শ্যামাপ্রসাদের কী বিষয়ে আলাপ হ‌ইল, তাহা কেহ জানিল না । শ্যামাপ্রসাদের প্রতি আচার্য্যদেবের এই আকর্ষণ ও মনোযোগের এবং পুনঃ পুনঃ আশীর্বাদ দানের মর্ম তখন ভাবিতে না পারিয়া বিস্মিত হ‌ইয়াছি ।

আচার্য্যদেবের (স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ) স্থূল লীলা সম্বরণপূর্ব্বক বিরাট সঙ্ঘদেহব্যূহে  অধিষ্ঠানের প্রায় সাত বৎসর পরে ইংরেজ গভর্ণমেন্ট ভারত খণ্ডনপৃর্ব্বক ভারতসাম্রাজ্য ত্যাগের আয়োজন করিল । ভারতের রাষ্ট্রনেতারা ইংরেজের রাজনৈতিক জুয়াখেলায় মাতিয়া চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারীর পরিকল্পনাকে (C.R.Formula) স্বীকারপূর্ব্বক ভারতবর্ষকে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান দুই ভাগ করিতে প্রস্তুত হ‌ইললেন । সমগ্র বাংলা ও পাঞ্জাবকে পাকিস্তানে ঠেলিয়া দিবার  আয়োজন হ‌ইল । 

বাংলার শরৎ বসু প্রমুখ তদানীন্তন রাজনৈতিক নেতারা এক বাক্যে পাকিস্তান পরিকল্পনার ফাঁদে বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির বলিদান অনুমোদন করিলেন । বাংলা ও বাঙালী জাতির বিনাশ ও বিলোপ অবধারিত হ‌ইল । এই সময়ে সঙ্ঘনেতা আচার্য্যদেবের আশীর্ব্বাদ ও শক্তিসমৃদ্ধ শ্যামাপ্রসাদের অন্তরের সুপ্ত সিংহ গর্জন করিয়া উঠিল । বাংলার তথা সমগ্র ভারতের নেতাদের বিরুদ্ধে তিনি একক মহাবিক্রমে অভ্যুত্থান করিলেন । পাকিস্তান রাক্ষসের কবলে  সমগ্র বাংলাকে উৎসর্গ করিবার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়া বাংলার এক-তৃতীয়াংশ পশ্চিমবঙ্গ ছিনাইয়া আনিয়া বাঙালী হিন্দুর দাঁড়াইবার স্থান ও অস্তিত্ব রক্ষার উপায় করিয়া দিলেন ।

এদিক দিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করিলে শ্যামাপ্রসাদের প্রচেষ্টা ও সাফল্য মেবারের মহারাণা প্রতাপ অথবা মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শিবাজীর কীর্তির  সহিত তুলনীয় । বাংলার বীর সন্তান শ্যামাপ্রসাদের জীবন-মাধ্যমে  এইরূপে  আচার্য্যদেবের বাংলা ও বাঙালী জাতির রক্ষার সঙ্কল্প রূপায়িত হ‌ইয়াছিল ।

তথ্যসূত্র:- " শ্রীশ্রী যুগাচার্য্য জীবন চরিত"
               স্বামী বেদানন্দ ,  ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ।।

Read More.

Shyama prasad Mukherjee : জাতীয়তাবাদী আদর্শের অগ্রদূত ছিলেন । শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি জীবনী - জেপি নাড্ডা


আপনার লেখা মনের লেখা লিখুন আমাদের সাথে The Point বাংলার সাথে। গ্লপ, কবিতা, রাজনীতি , রম্য রচনা, অর্থনীতি, সমাজনীতি , আপানার নিজের লেখা আমাদেরকে পাঠাতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন আমরা মুক্ত চিন্তন নয়, দিব্য জ্ঞান নয়- কাণ্ড জ্ঞান চাই।
আমাদের Email ID - thepointbangla@gmail.com

WebSite - https://www.pointbangla.com/
লেখার সাথে আপনার নাম , ফটো , পরিচয় দিয়ে পাঠাবেন। লেখা প্রকাশিত হলে আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ফেইসবুক-টুইটার-ইউটিউব এ দেখতে পারবেন।

নবীনতর পূর্বতন