নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | Ishwar Chandra Vidyasagar in Women's Education in Bengali

 নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

Ishwar Chandra Vidyasagar in Women's Education in Bengali


নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
Photo- Google

 

Ishwar Chandra Vidyasagar in Women's Education in Bengali : 

শুধু একবার সময়টা ভাবুন। ঈশ্বরচন্দ্রের বয়স যখন ১১ তখন ডিরোজিও মারা গেলেন, বয়স যখন ১৩ রামমোহন রায় মারা গেলেন। এরপর নিজের জীবনকালে সমসাময়িক দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরমধুসুদন কে পেয়েছেন, বয়সে খানিক ছোট রামকৃষ্ণ আর বঙ্কিম কে পেয়েছেন। সারাটা জীবন ধরে লালনকে পেয়েছেন। পুত্রসম বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, জগদীশ বসু কে পেয়েছেন। সারা বাংলাদেশ তখন কিরকম দ্যুতিময় বুঝতেই পারছেন। গায়ে কাঁটা দেয়।

গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে লোকটা বিধবা বিবাহ চালু করার জন্য লড়ে যাচ্ছে। রাধাকান্ত দেবরা প্রকাশ্যে আর বঙ্কিমচন্দ্রের মত লোকেরা আড়ালে আবডালে থেকে বিরোধিতা করছেন। এমনকি বড়লাট ডালহৌসিও হাত তুলে দিয়ে বলছেন ইয়ে, মানে প্রস্তাবটা ভালো, কিন্তু শাস্ত্রে যদি কোন উল্লেখ না থাকে তবে  সবাইকে চটিয়ে কি ভাবে সম্ভব ?” ভাবা যায়? কিন্তু ঈশ্বরও ছাড়বার বান্দা নন। তন্ন তন্ন করে বেদ, পুরান, সংহিতা খোজা শুরু হল। একেই হয়ত বলে কনভিকশন। খুঁজে পেলেন পরাশর সংহিতার একটি শ্লোক-

নষ্টে মৃতে প্রবরজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ

পচস্বাপতসু নারীনাং পতিরন্যে বিধয়তে

যার বাংলা করলে মোটামুটি এরকম দাঁড়ায় যদি স্বামী মারা যান, সন্ন্যাস নেন, নিখোঁজ হন, সন্তান গ্রহনে অক্ষম হন, অত্যাচারী হন তবে স্ত্রী আবার বিবাহ করতে পারে। পাশ হল বিধবা বিবাহ আইন।

বিদ্যাসাগরের Ishwar Chandra Vidyasagar) ব্যাপারে বলতে গিয়ে বিবেকানন্দ বলছেন সমগ্র উত্তর ভারতে আমার বয়সী এমন কোন মানুষ নেই যার ওপর ওনার প্রভাব পড়ে নি

মধুসুদন বলছেন তার মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় ঋষিদের প্রজ্ঞা, পাশ্চাত্যের উদ্যম আর বাঙ্গালী মায়ের হৃদয় ছিল

রামকৃষ্ণ তার সাথে প্রথম আলাপেই অকপট বলে ফেলেন এতদিন খাল, বিল, নদী দেখেছি। আজ সাগর দেখছি

আর রবীন্দ্রনাথের সেই অমোঘ উক্তি বাঙ্গালী গড়তে গড়তে বিধাতা যে কি করে একটা ঈশ্বরচন্দ্র বানিয়ে ফেললেন সেটা অতীব আশ্চর্যের

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (Ishwar Chandra Vidyasagar)  দ্বিশত জন্মবার্ষিকীতে আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই।

বর্নপরিচয়ের মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের সংগে আমার পরিচয় এবং বন্ধন।। এই বন্ধন আমৃত্যু অটুট থাকবে‌

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জেনে রাখা ভালো Ishwar Chandra Vidyasagar in Women's Education in Bengali History : 

গ্রীসের সক্রেটিস, এরিস্টটলদের নাম সারা বিশ্ব জানলেও বাংলার বিদ্যাসাগরকে সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি বাঙালীরাই। জীবিত অবস্থায় বা মৃত্যুর পর আমরা তাঁকে উপযুক্ত মর্যাদা দিতে পারিনি। অথচ তিনি বাংলার রেঁনেসার জনক। তাঁর সমসাময়িক যুগের কথা বাদ দিলেও পরবর্তীকালে আমাদের রাজনেতারা কেউ বিদ্যাসাগরকে Ishwar Chandra Vidyasagar)  বুর্জোয়া বলে বাতিল করেছে। আবার কেউ তাকে হিন্দু উচ্চবর্ণের সংস্কারক হিসেবে বাতিল করেছে। মূলত রাজনৈতিক কারণেই বিদ্যাসাগর সক্রেটিসের মত আজও এদেশে মডেল হতে পারেননি। যার ফলে আমাদের যুব সমাজের টিশার্টে বিদ্যাসাগর স্থান পায়নি, স্থান পেয়েছে চে গুয়েভারা কিংবা ননী চোরেরা। 

আজ বিদ্যাসাগরের প্রতি যাঁরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তাঁদের অনেকেই "মা কালীর পুজো করে ডাকাতি করার মতলব করছেন"। সেই ডাকাতি আমার আপনার ভাবনার ঘরে ডাকাতি। অতএব সাবধান।

অরূপ ব্যানার্জী

পুরোনো কলকাতার গল্প
নবীনতর পূর্বতন