মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য জীবনী - Pradyot Kumar Bhattacharya Biography in bengali

 

bengali freedom fighters name Pradyot Kumar Bhattacharya বিপ্লবী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য
বিপ্লবী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য
প্রকাশ রায়-

"তােমাকে যদি কেউ আমার চোখের সামনে অত্যাচার করে, কেটে টুকরাে টুকরাে করতে চায় এবং আমি যদি পাগলের মতাে না লাফিয়ে বিচার করতে বসি - যে এতে আদৌ সুরাহা হবে কিনা, আইন এর মান্যতা দেয় কিনা, এ নিয়ে খবরের কাগজে তীব্র প্রবন্ধ লেখা যায় কিনা, তাহলে ধীর মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবাে ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তােমার মাতৃহৃদয়টা কি ছি ছি করে জ্বলে উঠবে না, যে ছোটোবেলায় বুকের দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে কেনো এই ক্লেদের পিণ্ডটাকে মেরে ফেলিনি ! " -  শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য

স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য জীবনী

  • নাম- শহীদ প্রদ্যোত কুমার ভট্টাচার্য
  • জন্ম: 13 নভেম্বর 1913, পশ্চিম মেদিনীপুর
  • মৃত্যু: 12 জানুয়ারী 1933
  • শিক্ষাঃ মেদিনীপুর কলেজ (স্বায়ত্তশাসিত)
  • আন্দোলন: ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন
Pradyot Kumar Bhattacharya Biography in bengali : প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য আজও অনেকের কাছে চেনা আবার অনেকের কাছে অচেনা। ইনিই সেই বিপ্লবী যিনি মেদিনীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট রবার্ট ডগলাসকে হত্যা করেন। এই কারণে তাকে ফাঁসির মঞ্চে শহীদ হতে হয়। রবার্ট ডগলাসকে হত্যার জন্য যে দুই তরুণ বিপ্লবীরা জড়িত ছিলেন, তাদের মধ্যে প্রভাংশুশেখর পাল ছিলেন। এই দুই তরুণের আক্রমনে ডগলাসের মৃত্যু ঘটে। দুর্ভাগ্যবশত প্রদ্যোতকুমার ঘটনাস্থলেই রিভলবার সহ ধরা পড়েন। প্রভাংশুশেখর পাল সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হয়। বিপ্লবী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্যের জন্ম হয়েছিল ৩ রা নভেম্বর ১৯১৩ সালে।

বিপ্লবী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য


প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য ছাত্রাবস্থায় বিপ্লবী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। কারন ছিল, মেদিনীপুরের হিজলি জেলে যে বন্দীদের ওপর অত্যাচার ও গুলি চালানো হয়েছে, তার জন্য সারা দেশে অন্ধকারের ছায়া নেমে এসেছে। এরই প্রতিবাদে প্রদ্যোতকুমার বিপ্লবী দলে যোগ দেন। প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্যের পিতার নাম ছিল ভবতারণ ভট্টাচার্য। তার জন্মস্থান ছিল মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার রাজনগরের গোকুলনগরে। প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফাস্ট ডিভিশন পেয়েছিল তিনি। তারপর মেদিনীপুর কলেজে ভর্তি হন। মেদিনীপুর কলেজ থেকে প্রদ্যোতকুমার বিপ্লবী দলে যোগ দেন।

Bengali freedom fighters name Pradyot Kumar Bhattacharya: দিনটি ছিল ৩০ শে এপ্রিল ১৯৩২ সাল। তখন ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস তখন জেলা বোর্ডের এক মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করছিলেন। সেই মিটিংয়ে হাজির হলেন দুই তরুণ যুবক প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য ও প্রভাংশুশেখর পাল। ক্ষনিকের মধ্যেই তাদের রিভলবারটি গর্জে উঠল। ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। এবার বিপ্লবীদের উধাও হওয়ার পালা। সবাই বলছে "ধর ধর ওই যে পালাচ্ছে।" সেখানে পুলিশ প্রহরীও খুব ভালই ছিল। তার সঙ্গী প্রভাংশুশেখর পালকে পলায়ান করতে সাহায্য করেন প্রদ্যোতকুমার, পিস্তলসহ রুখে দাঁড়ায় আর তাকে ধরা পড়তে হয়।

অনুসন্ধান করে দেখা হয়, প্রদ্যোতকুমারের গুলিতে ডগলাস মারা যাননি। এই কারণে প্রদ্যোতকুমারের শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। যে করেই হোক সত্য তার মুখ থেকে বের করতেই হবে। এতো অত্যাচার করা সত্যেও প্রদ্যোতকুমার তার সঙ্গীর নাম মুখে নেয়নি, তিনি কোনো প্রকার দুর্বলতা দেখাননি।। প্রদ্যোতকুমারের বয়স তখন ২০ বছর। বিচারে তার ফাঁসি সাজা হয়। কিন্তু প্রকৃত হত্যাকারী ছিলেন বিপ্লবী প্রভাংশুশেখর পাল।

বিপ্লবী শহীদ প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য


ডগলাস হত্যার দায়ে অভিযুক্ত, ফাঁসির অপেক্ষায় থাকা প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্যের চিঠি তার মায়ের উদ্দেশ্যে, "তােমাকে যদি কেউ আমার চোখের সামনে অত্যাচার করে, কেটে টুকরাে টুকরাে করতে চায় এবং আমি যদি পাগলের মতাে না লাফিয়ে বিচার করতে বসি - যে এতে আদৌ সুরাহা হবে কিনা, আইন এর মান্যতা দেয় কিনা, এ নিয়ে খবরের কাগজে তীব্র প্রবন্ধ লেখা যায় কিনা, তাহলে ধীর মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবাে ঠিকই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তােমার মাতৃহৃদয়টা কি ছি ছি করে জ্বলে উঠবে না, যে ছোটোবেলায় বুকের দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে কেনো এই ক্লেদের পিণ্ডটাকে মেরে ফেলিনি ! "

Pradyot Kumar Bhattacharya



এবার এল অপেক্ষার সেই দিন, ১২ ই জানয়ারি ১৯৩৩ সাল। ভোর হয়ে এলো, চারিদিকে কুয়াশায় ঢাকা অন্ধকার আর কনকনে শীতের ঠাণ্ডায় ফাঁসির মঞ্চে এগিয়ে গেলেন প্রদ্যোতকুমার। জেলের বিভিন্ন বন্দিগৃহ থেকে শ্লোগান শোনা যাচ্ছে, "প্রদ্যোতকুমারের জয়।" ফাঁসির মঞ্চে উঠে দাড়ালেন প্রদ্যোতকুমার, কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো বাংলা মায়ের দামাল ছেলে প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য।
(তথ্যসূত্র সংগৃহীত)
নবীনতর পূর্বতন