Kumudini Dakua | কুমুদিনী ডাকুয়া স্বাধীনতাসংগ্রামী বাংলার উপেক্ষিতা নারী

 Forgotten Women Freedom Fighters Kumudini Dakua 

Forgotten Women Freedom Fighters Kumudini Dakua কুমুদিনী ডাকুয়া
Forgotten Women Freedom Fighters Kumudini Dakua কুমুদিনী ডাকুয়া

মুক্তি সংগ্রামে বাংলার উপেক্ষিতা নারী কুমুদিনী ডাকুয়া Kumudini Dakua


Kumudini Dakua কুমুদিনী ডাকুয়া, ওরফে মানসী বা মানু জন্মেছিলেন ১৯২৫ সালে। পূর্ণচন্দ্র জানা এবং জ্ঞানদাময়ী জানার মেয়ে কুমুদিনী মেদিনীপুরের সুতাহাটা থানা এলাকায় শৈশব কাটিয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণীর বেশি লেখাপড়া করার সুযোগ তাঁর হয়নি। ক্ষুদিরাম ডাকুয়ার সাথে ১৯৩৮ সালে তাঁর বিবাহ হয় (একই থানার বরোদা গ্রাম)।


ক্ষুদিরামবাবু প্রথম থেকেই স্বদেশী কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। লবণ সত্যাগ্রহের সময় তিনি প্রথম ১৯৩০ সালে নরঘাট লবণ কেন্দ্রে 'লবণ আইন' ভাঙেন। তাঁর প্রেরণাতেই কুমুদিনী দেশের কাজে উৎসাহী হন এবং ‘বাসুদেবপুর গান্ধী আশ্রম'এ যোগ দিয়ে নানা গঠনমূলক কাজ করতে শুরু করেন। এই সময় তিনি ইতিহাস, ভূগোল, জাতীয় আন্দোলন ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশোনাও করতে থাকেন। স্বামীর অনুপ্রেরণায় প্রথম দিকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে কংগ্রেসের বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত থাকলেও ১৯৪২ সালে কিন্তু বহু দুঃসাহসী কাজে অংশ নিতে দেখা যায় তাঁকে ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নেতাদের নির্দেশে।


কুমুদিনীর চরিত্রে এ এক অসাধারণ পরিবর্তন। কঠোর শরীর চর্চার মাধ্যমে দেহ এবং মনকে তিনি অসম্ভব দৃঢ় করে তোলেন। যে কোনও বিপজ্জনক কাজে দ্বিধাহীন ভাবে অগ্রসর হতেন। আত্মরক্ষা ও আক্রমণের শিক্ষা অন্য মহিলাদেরও দিতেন ‘হায়নাপুলিশ'এর সাথে মোকাবিলা করার জন্য। এইভাবে 'সুতাহাটা থানা জাতীয় সরকারের' জাতীয় বাহিনীর তিনি প্রধান হয়ে ওঠেন। ২৯ সেপ্টেম্বর সুতাহাটা থানা অধিকার করার কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সাফল্য অর্জন করলেও গ্রেপ্তারী এড়াতে দলের নির্দেশে কুমুদিনী আত্মগোপন করেন।

Kumudini Dakua

পয়লা নভেম্বর সহযোদ্ধা গিরিবালা দে'কে নিয়ে আবার তিনি সুতাহাটা আসেন গোপনে। উদ্দেশ্য ছিল দুটি—প্রথমত, ক্ষুদিরামবাবুর অসুস্থ মা-বাবাকে দেখা। দ্বিতীয়ত, মহিলাদের আত্মরক্ষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া। পুলিশ কিন্তু খবর পেয়ে যায় এবং রাত্রিবেলা তাঁকে ঘিরে ফেলে। এই প্রসঙ্গে ‘বিপ্লবী' পত্রিকা লিখেছে—“ভগিনী সেনার সৎসাহস—ভগিনীরা দুই ঘণ্টা যাবৎ দারোগার সহিত বিতর্ক করেন এবং রাত্রিতে বাড়ী ছাড়িয়া যাইতে অসম্মত হন। তখন দারোগা বাহিরে চলিয়া যায়। সৈন্যদের হাবিলদার আসিয়া তাহাদের উপর বলপ্রয়োগ করিতে যাইলে সতীত্ব নাশের ভয়ে আত্মরক্ষার জন্য ভগিনীরা তাহাকে ছোরা দেখায়। হাবিলদার ভয়ে বাহিরে পলায়ন। করে।”


১৩ জনের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী সেদিন ঐ দুই সাহসিনীর সিংহনাদে রীতিমত ভীত হয়েছিল। এমনকী উক্ত হাবিলদার তাঁদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিল খারাপ ব্যবহারের জন্য। তারা সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে এবং কুমুদিনীদের সসম্মানে থানায় নিয়ে যায়। কুমুদিনী ডাকুয়ার ১৫ মাসের কারাদণ্ড হয়, মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।



কারাগারেও তাঁর সংগ্রাম জারি ছিল। একবছর তিন মাস পরে সেই দৃঢ়তা নিয়েই মুক্ত হয়ে ঘরে ফেরেন। শরীর কিন্তু আর তাঁর সহায়ক ছিল না। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে শয্যা নেবার অবস্থা হয়েছিল। তবু রোগের কাছে হার মানেননি কুমুদিনী ডাকুয়া। হার মানলাম আমরা, তাঁর স্মৃতিকে হারিয়ে ফেলে।

নবীনতর পূর্বতন