তান্ত্রিক [tantra ] আচার পঞ্চ ‘ম’ কার (পঞ্চমকার) সাধনা মানে কি | Panchamakara Sadhana in bengali

Panchamakara Sadhana in bengali - পঞ্চ ‘ম’ কার (পঞ্চমকার) সাধনা মানে কি 


পঞ্চমকার সাধনা panchamakara Sadhana
panchamakara Sadhana


‘পঞ্চ ‘ম’কার বা পঞ্চমকার সাধনা (panchamakara Sadhana ) তান্ত্রিক আচার পদ্ধতি কি

                               
panchamakara Sadhana  : ‘মদ্য’, ‘মাংস’, ‘মৎস্য’, ‘মুদ্রা’ ও ‘মৈথুন’ – এগুলোই ‘তন্ত্রসাধনার পঞ্চ ম-কার’ বা ‘পঞ্চ তত্ত্ব’। ‘শ্লীলবাদী বাবুরা’ জিজ্ঞাসা করে থাকেন যে, এই ‘পঞ্চ তত্ত্বের’ কি কোন ‘আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা’ আছে, কোন ‘esoteric’ অর্থ আছে, না সেটা সোজাসুজি সাধারণ ভাবে বুঝতে হবে? এই জিজ্ঞাসার সঙ্গে এটুকু ইঙ্গিতও করা হয়, যেন সোজা অর্থে সেটা বেজায় ‘মন্দ’, ‘ধর্মের নামে’ তাতে ‘পাপের প্রশ্রয়’ দেওয়া হয়, সেটা ‘Black Art’ বা ‘কালো বিদ্যা’, ‘বামমার্গ’ বা ‘সজ্জন-সমাজের’ জন্য ‘হেয় ব্যাপার’। (panchamakara system of worship in bengali ) ‘তন্ত্রগ্রন্থসমূহ’ পড়লে মোটামুটিভাবে যেটা বোঝা যায় 

 ‘পঞ্চ তত্ত্বের’ তিন প্রকারের প্রয়োগ আছে -


  1. (১) মোটামুটি সোজাসুজি অর্থ; ‘মদ্য’, ‘মাংস’, ‘মৎস্য’, ‘মুদ্রা’ ও ‘মৈথুন’ - ‘বাহ্য পূজায়’ এবং ‘স্থূল সাধনায়’ এটার ‘নিয়মিত প্রয়োগ’ আছে;
  2. (২) ‘মানস পূজায়’ এর অর্থ ‘স্বতন্ত্র’ নয়, তবে এটা ‘কাল্পনিক’ ব্যাপার মাত্র; যিনি ‘সাধক’ তাঁকে ‘মনে মনে কল্পনা’ করতে হবে যে, তিনি দেবীকে ‘সুরার সাগর’, ‘মাংসের পর্বত’, ‘মৎস্যের স্তূপ’, ‘মুদ্রার সম্ভার’ দিচ্ছেন এবং ‘পদ্মিনী নারী’র সঙ্গে ‘মৈথুন সাহায্যে’ ‘কুণ্ডলিনী’কে জাগরিত করছেন;
  3. (৩) ‘ষট্‌চক্রভেদে’ ‘পঞ্চ তত্ত্বের’ অর্থ স্বতন্ত্র, প্রয়োগও স্বতন্ত্র, সেখানে তার ‘আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা’ বা ‘ইস্টরিক অর্থ’ আছে। কিন্তু ‘তন্ত্রের পদ্ধতিমত ষট্‌চক্ৰভেদ’ কয় জন করতে পারেন? কয় জন বাইরের শক্তির সাহায্য ব্যতিরেকে ‘কুণ্ডলিনীর উদ্বোধন’ ঘটাতে পারেন? পারেন না - সচরাচর হয় না বলেই এর সোজা অর্থ ধরতে হয়, সাধারণতঃ লোকে ‘পঞ্চ ম-কারে’ যা বোঝে, সেটাই ধরে নিতে হয়।


কিন্তু প্রশ্ন হল, এতে লজার বা সঙ্কোচের বিষয় কি আছে? ‘তন্ত্রধর্ম’ প্রচারের ধর্ম নয়, সেটা ‘গুপ্ত’ - ‘গোপ্য’ বা ‘গোপন সাধনার ধর্ম’; যাঁর যেমন ‘শক্তি’, যাঁর যেমন ‘অধিকার’, তাঁকে তেমনই ‘কর্মপদ্ধতি’ দেখিয়ে দিয়ে ‘তন্ত্র’, জীবমাত্রেরই উদ্ধারের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। ‘তন্ত্র’ ভাবের ঘরে চুরি করে না, ভিতরের পর্দা ও বাইরের পর্দা রাখে না; তুমি যেমন, তোমার প্রবৃত্তি যেমন, তেমনই ‘সাধনপদ্ধতির ব্যবস্থা’ করে থাকে। সুতরাং ‘পঞ্চ ম-কারে’ লজ্জাবোধ করবার মতন কোন কারণ ‘শাস্ত্রগতভাবে’ দেখা যায় না।
                                 
tantra sadhana in bengali আগেই বলা হয়েছে যে, ‘আত্মশক্তি’, ‘উম্মেষ সাধনই’ ‘তন্ত্রসাধনা’। (panchamakara system of worship in bengali )  ‘তন্ত্র’ নিজের ‘দেহস্থ আত্মা’ ছাড়া অন্য কোন ‘বাহ্য শক্তিকে’ ‘দেবতা’, ‘ঈশ্বর’ বলে মানে না। ‘তন্ত্র’ বলে যে, আমার দেহের মধ্যে যে এক জন বিরাজ করছেন, সেটা আমি বুঝি; তিনি জগৎকে বুঝতে চান, ‘সৃষ্টিপ্ৰহেলিকাকে’ উদঘাটন করতে চান। তাই অনুমান করতে হয় যে, যিনি আমার ভিতরে আছেন, তিনিই ‘বিশ্বসৃষ্টির মধ্যে’ আছেন। আমার ভিতরের ঠাকুরকে আমি চিনতে পারলে বাইরের ঠাকুর নিজে এসে আমার কাছে ধরা দেবেন। এখন দেখতে হইবে, আমার ভিতরের ঠাকুরের বিকাশ কেমন করে হয়। ‘আহারে-বিহারে’, ‘জীবনের উপভোগে’ ভিতরের ঠাকুরটি যেন একটু জেগে উঠেন। বিশেষতঃ ‘কাম ও মদনের চেষ্টায়’ ভিতরের ঠাকুরের যেন কিছুটা নাগাল পাওয়া যায়; কারণ, ‘কামচৰ্চার ফলে’ ‘নরনারীর সংযোগে’ একটা নতুন জীবের সৃষ্টি হয়। অতএব ‘মৈথুন’ থেকেই ‘কুণ্ডলিনীর জাগরণের পদ্ধতি’ অনেকটা বোঝা যায়। ‘তন্ত্র’ স্পষ্ট বলেছে, ‘সিস্মৃক্ষ’ বা ‘সৃজন ইচ্ছা’ ‘কামের নামান্তর মাত্র’। যে ‘পরমাত্মা’ ‘এক আমি বহু হব’ বলে ‘সৃষ্টিপ্ৰহেলিকার বিকাশ’ করেছিলেন, সেই ‘পরমাত্মা’ তোমার ‘দেহস্থ’ থেকে এক আমি বহু হবার সাধ ‘অন্য নারীতে উপগত হয়ে’ মিটাতে থাকেন। ‘আদি সৃষ্টিতে’ যেমন ‘আদ্যা শক্তি’র জাগরণের ফলে ‘বিশ্বাত্মা’র মনে ‘সিস্বাক্ষা’ জেগে উঠেছিল, তেমনই ‘নারীদেহাভ্যন্তরে’ ‘আদ্যা শক্তি কুণ্ডলিনী’ জেগে উঠলে, তবে সে নারী পুরুষকে আকর্ষণ করে এবং সেই আকর্ষণের ফলে, ‘স্ত্রীত্ব-পুত্বের সংযোগে’ নতুন জীবসৃষ্টি হয়। ‘কুণ্ডলিনী’ না জাগলে কোন স্ত্রীই ‘গর্ভবতী’ হতে পারেন না, ‘কুণ্ডলিনী’ না জাগলে কোন পুরুষের ‘রেতঃপ্রবাহের সঙ্গে আত্মশক্তির নিঃসরণ’ হয় না, ‘নারীর জরায়ুতে নব জীবের আধান’ হয় না। অতএব ‘প্রকৃত মৈথুনপদ্ধতির বিশ্লেষণ’ করতে পারলে ‘আত্মশক্তির’ কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়।
                                
এটাই হল ‘তন্ত্রের সৃষ্টিতত্ত্বের থিওরি’ বা ‘সিদ্ধান্তকথা’। তবে একা ‘তন্ত্র’ কেন ? - ‘উপনিষদে’, ‘পুরাণে’, ‘বৈষ্ণব’, ‘শৈব’ সকল শাস্ত্রে এই একই সিদ্ধান্ত নানা ভাবে, নানাপ্রকারের ভাষায় বর্ণিত আছে। অন্য সকল ‘শাস্ত্ৰ’ যা ‘থিওরির হিসাবে’ ব্যাখ্যা করে ‘নিরস্ত’ আছে, ‘তন্ত্র’ সেটাকে করে ‘কর্মীয়’ দেখিয়ে দিয়েছে। এইখানে একটা কথা অবশ্যই উল্লেখ্য। আমাদের দেশে কিছুটা ‘হঠযোগের প্রভাবে’, কিছুটা ‘খ্ৰীষ্টানধর্মের প্রভাবে’ নারী বা স্ত্রীজাতি সমাজে যেন একটু ‘নিম্ন স্থান’ অধিকার করেছেন। অথচ ‘বেদ’ থেকে ‘পুরাণ-তন্ত্ৰ’ পৰ্য্যন্ত সব ‘ঋষিপ্রণীত শাস্ত্র’ই বার বার বলে রেখেছে যে, ‘নারী নরের অৰ্দ্ধাঙ্গস্বরূপিণী’, ‘ধৰ্ম্মকৰ্ম্মের সহচরী’! ‘বেদের কোন যজ্ঞ’ই স্ত্রী ব্যতীত হওয়া সম্ভব ছিল না; ‘অগ্নিহোত্ৰী’ হতে হলে স্ত্রী অবশ্যই দরকার। ‘পৌরাণিক ক্রিয়াকর্ম’ স্ত্রীর সঙ্গে করতে হত; ‘শাস্ত্রে’ বলা হয়েছে ‘স্ত্রীসঙ্গবৰ্জিত’ হয়ে ‘তীর্থদর্শন’ করলে সেই দর্শন ব্যর্থ হয়; ‘শ্ৰাদ্ধ-শান্তি’ও স্ত্রী সহ করতে হয়। ‘শক্তিশূন্য’ হয়ে কোন ‘যজ্ঞ’ করবার উপায় নেই। ‘দীক্ষা’ গ্ৰহণ করতে হলে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে নিতে হবে; ‘জপ-যজ্ঞ’ করতে হলে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে করতে হবে; ‘মহানির্বাণতন্ত্র’ স্পষ্টই বলেছে যে, ‘ভৈরবীচক্ৰে’ স্ত্রীকে ‘শক্তিরূপে’ পেলে অন্য নারীর প্রয়োজন হয় না। অন্য নারীকে ‘শক্তি’ করতে হলে ‘শৈব পদ্ধতিমতে’ তাঁকে বিয়ে করে, স্ত্রীর পদে বরণ করে, তবে ‘চক্ৰে’ বসতে হবে। যাঁর স্ত্রী নেই, তাঁর কোন ‘বৈধ কর্মে’ অধিকার নেই; সে ‘গৃহস্থাশ্রমে’ থাকতেই পারে না। তাঁকে হয় ‘প্ৰব্ৰাজ্য’ গ্ৰহণ করতে হবে, না হলে (tantra sadhana in bengali) ‘বানপ্ৰস্থ’ অবলম্বন করতে হবে। ‘গৃহস্থাশ্রমে’ থাকতে হলে ‘বিপত্নীক পুরুষকে’ বিবাহ করতেই হবে। অবশ্য যদি কোন ‘গৃহীর’ পঞ্চাশ বছর বয়স অতিক্রান্ত হলে ‘স্ত্রীবিয়োগ’ হয়, তা হলে তিনি ইচ্ছা করলে ‘বানপ্ৰস্থ আশ্রম গ্রহণ করতে পারেন ।।


তান্ত্রিক গুরু tantra sadhana in bengali


panchamakara Sadhana : মেরুদণ্ড প্রভৃতি সরলভাবে রাখিয়া স্থিরভাবে আপন আপন অভ্যন্ত যে কোন আসনে (সিদ্ধাসনাদিতে উপবেশন করিবে। প্রথমতঃ স্বকীয় সপ্তক মধ্যে গুরুতদলপদ্মে গুরুদেরের ধ্যান করতঃ প্রার্থনা ও প্রণাম করিবে। অনন্তর “চু" মন্ত্র উচ্চারণ পূর্ব্বক ইড়া ও পিঙ্গলার শ্বাস বায়ুকে একত্রিত করিয়া ধীরে ধীরে বায়ু টানিয়া মূলাধার সঙ্কোচ পূর্ব্বক “ভং মন্ত্র উচ্চারণ কবিয়া কুম্ভক করিতে হইবে। ইহাট কুলাচারীর “মৎস্য সাধনা ” এই মৎস্য সাধনায় কল-কুণ্ডলিনী শক্তিরূপা কালীদেবী জাগরিতা হইয়া উর্দ্ধ গমনোন্মুখী হইবেন।

অনন্তর কুণ্ডলিনী শক্তিকে শ্বাসের সাহায্যে হৃদয়খ অনাহত-পদ্মে আনয়ন করিয়া অন্তর্যাগের প্রণালীতে পূজা, জগ ও হোমকার্য সম্পাদন করিবে। পরে চিন্তা করিবে সহস্রার মহাপদ্মের কর্ণিকার ভিতর পারদ ভুলা স্বচ্ছবিন্দুরূপ শিবের স্থান। ইহাই কুলাচারীর “মুদ্রাসাধনা? উক্ত শিবের ভবন সুখ-দুঃখ-পরিশুন্য ও সর্ব্বকালীন ফল-পুষ্পালঙ্কত স্বর্গীয় তরু-পরিশোঙিত। উক্ত ভবনাভ্যন্তরে সদাশিবের মনোহর মন্দির, এই মন্দিরে একটা কল্পপাদপ আছে, এই পাদপ পঞ্চভূতাত্মক, ব্রহ্ম ও গুণত্রয় উচার শাখা, চতুর্ব্বেদ ইহার শ্বেত, রক্ত পীত ও কৃষ্ণপূর্ণ পুষ্প। উক্ত প্রকার কল্পতরুর ধ্যান করিয়া ইহার অধোভাগে রত্নবেদিকা, তাহার উপরিভাগে রত্নালঙ্কড, সুগন্ধ মন্দারপুষ্প-বিনির্ম্মিত পর্যঙ্ক এবং তাহার উপরিভাগে, বিমল-স্ফটিক-ধবল, সুদীর্ঘ ভূক্তশালী, আনন্দ-বিস্ফারিত-নেত্র, প্লের মুখ, নানারছালতদেহ, কুগুলালঙ্কতবর্ণ রত্নহার ও লোহিতপদ্মষক পরিশোভিত-বঙ্গঃস্থল, পদ্মপলাশ-ত্রিলোচন রম্য-মন্ত্রীরালঙ্কৃত-চরণ, শব্দ ব্রহ্মময়-দেহ, এইরূপ দেবাদিদেব শিক্ষক ধ্যান করিবে। তিনি শস্বরূপের ভায় নিরীহ, তাহার কোন কাৰ্য্য নাই। অনন্তর অপর হইতে বেড়াশী।

স্থির-যৌবনা, পীনোন্নত পয়োধরপালিনী সৰ্ব্ববিধ-অলঙ্কার-পরি শোভিতা, পূর্ণ-শশধর-সুন্দর-মুখী, রক্ত-বর্ণা, চঞ্চল-নয়না, নানাবিধ রা লঙ্কৃতা নুরযুক্ত-পাদপদ্মা, কিঙ্কিণীযুক্ত কটিদেশা, স্বত্বকঙ্কণ-মণ্ডিত ভুঞ্জ যুগশালিনী, কোটি কন্দর্পসুন্দরবিগ্রহা সুমধুর-মৃদুমন্দ-হা্যযুক্ত-বদনা ইট দেবীকে সহস্রারে শিব-সকাশে আনয়ন করিবে। অনন্তর চিন্তা করিবে পরাশক্তি কামসমুল্লাস-বিহারিণী রূপবতী ভগবতী দেবী মুখারবিন্দের গন্ধে 'নিদ্রিত শিবকে প্রবোধিত করিয়া তাঁহার সমীপে উপবেশন করতঃ শিবের মুখপদ্ম চুখন করিতেছেন। এইরূপ ধ্যানকালে সাধক সমাহিত চিত্তে ও মৌনী হইয়া চিন্তা করিবে। ইহাই কুলাচারীর “মাংস সাধনা।” (panchamakara system of worship in bengali ) তৎপরে সাধক চিন্তা করিবে, দেবী শিবের সহিত আলিঙ্গিত হইয়া স্ত্রী পুরুষের ন্যায় সঙ্গমাসক্ত হইলেন। এই সময় সুধীব্যক্তি অপনাকে শক্তির সহিত অভিন্ন তাবনা করিয়া নিজকে আনন্দময় ও পরম সুখী জ্ঞান করিবে। ইহাই কুলাচারীর “মৈথুন সাধনা” অতঃপর জিহ্বাগ্র দ্বারা তালুকূহর রোধ করতঃ স্ত্রীপুরুষের ন্যায় শিব-শক্তির শৃঙ্গার রস-পূর্ণ বিহার হইতে যে সুধাক্ষরণ হইতেছে, সেই সুধাধারা দ্বারা সৰ্ব্বাঙ্গ প্লাবিত হইতেছে. এইরূপ ধ্যান-নিবিষ্ট হইয়া থাকিবে। ইহাই কুলাচারীর মদ্য সাধনা । এই সময় সাধকের নেশার ন্যায় অবস্থা হয় ; গা-মাথা টলিতে থাকে। তখন আর কোন চিন্তা করিবে না। তাহা হইলে নিস্তরঙ্গিণী অর্থাৎ নির্ব্বাত জলাশয়ের হ্যায় নিশ্চলা সমাধি উৎপন্ন হইবে। নারীসহবাসকালে গুরু-বহির্গমন সময়ে শরীর ও মনে যেমন অনিৰ্দেশ্য আনন্দ অনুভব ও অব্যক্ত ভাব হইয়া থাকে, সাধক সমাধিকালে তদপেক্ষ| কোটি কোটি গুণ অধিক আনন্দ অনুভব করিয়া থাকে। শরীর ও মনের সে অন্যক্ত – অপূর্ব্ব ভাব ব্যক্ত করিবার উপায় নাই।
tantra sadhana in bengali
tantra sadhana in bengali 



তান্ত্রিক গুরু tantra sadhana in bengali


অনত্তর এইরূপে দিব্য কুলামৃত পান করাইয়া পুনর্ব্বার কুণ্ডলিনীকে কুলস্থানে (মূলাধার পদ্মন্থ ব্রহ্মযোনি মণ্ডগে) আনয়ন করিবে। পুনঃ পুনঃ এইরূপ করিতে হইবে। যথা

পীত্বা পীত্বা পুনঃ পীত্ব। পতিতো ধরণীতলে। উত্থায় চ পুনঃ পীত্ব৷ পুনৰ্জ্জন্ম ন বিদ্যতে ॥

কুলার্ণব তন্ত্র।

এইরূপে পুনঃ পুনঃ কুণ্ডলিনী শক্তিকে কুলামৃত পান করাইলে সাধকের আর পুনর্জন্ম হয় না। পাঠক! ইহা মদের নেশার পুনঃ পুনঃ খানায় পড়া নহে। মূলাধার হইতে কুণ্ডলিনীর পুনঃ পুনঃ সহস্রারে গমন ও কুলামৃত পান। এই সাধন সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ, ইহার অনুষ্ঠানে এমন কোন বিষয় নাই, যাহাতে সিদ্ধিলাভ করিতে না পারা যায়। ভাই তন্ত্র বলিতেছেন,—

“মকার-পঞ্চং কৃত্ব। পুনৰ্জ্জন্ম ন বিঘতে।”

panchamakara Sadhana : পঞ্চ-মকারের সাধনায় সাধকের পুনরায় জন্ম হয় না। উক্তবিধ সাধক গঙ্গাতীর্থে কিম্বা চণ্ডালাপয়ে দেহত্যাগ করিলেও নিশ্চয় লহ্মপদ প্রাপ্ত ইবে। কারণ

এমভ্যস্যমানস্ত অহন্যহনি পাৰ্ব্বতি ।

জরামরণদুঃখান্মুৈচ্যতে ভববন্ধনাত্ ॥

শাক্তানন্দ তরঙ্গিণী।

উক্ত সাধনা অভ্যস্ত হইলে সাধক জরামরণাদি দুঃখ ও ভববন্ধন হুইতে মুক্তিলাভ করে।

পঞ্চ-মকারে কালী সাধনা Kali sadhana mantra Bangla


Kali sadhana bangla : শক্তি-পূজা প্রকরণে মদ্য, মাংস মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন. এই পঞ্চতত্ত্ব সাধন-স্বরূপে কীৰ্ত্তিত হইয়া থাকে। পঞ্চতত্ত্ব ব্যতিরেকে পূঞ্জা করিলে ঐ পূজা প্রাণনাশকারী হইয়া থাকে, বিশেষতঃ তাহাতে সাধকের অভীষ্টসিদ্ধ হওয়া দূরে থাকুক, পদে পদে ভয়ানক বিঘ্ন ঘটে। শিলাতে শ্য বীজ বপন করিলে যেরূপ অঙ্কুর উৎপন্ন হয় না, সেইরূপ পঞ্চতত্ত্ব বৰ্জ্জিত পূজায় কোন ফল ফলেনা। আদিদেব মহাদেব বলিয়াছেন ;

কুলাচারং বিনা দেবি শক্তিমন্ত্রে৷ ন সিদ্ধিদঃ । তন্মাৎ কুলাচাররতঃ সাধয়েচ্ছক্তিসাধনম্ ॥

মহানিৰ্ব্বাণ তন্ত্র ।

(tantra sadhana in bengali) হে দেবি! কুলাচার ব্যতিরেকে শক্তিমন্ত্র সিদ্ধিদায়ক হয় না, কুলা চারে রত থাকিয়৷ শক্তিসাধন করা কর্তব্য। পঞ্চ-মকারে সাধনার ক্রম এইরূপ ---

সাধক প্রাতঃকৃত্যাদি নিত্যকর্ম্ম সমাপন পূর্ব্বক গোপনীয় গৃহে কুশাসন কিয়া কল্লাশন বিস্তৃত করিয়া পূর্ব্ব শিক্ষা উত্তর মুখ হইয়া স্কন্ধ, মস্তক,




নবীনতর পূর্বতন