Alinda War : অলিন্দ যুদ্ধ কী এবং কবে হয়েছিল? বিনয় বাদল দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান

Alinda War : অলিন্দ যুদ্ধ কী এবং কবে হয়েছিল? বিনয় বাদল দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান 

 

binoy-badal-dinesh-history-in-bengali Alinda War  অলিন্দ যুদ্ধ কী এবং কবে হয়েছিল বিনয় বাদল দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান
  বিনয় বাদল দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান

তথ্যসূত্র ও ছবি নেট থেকে সংগৃহীত

অলিন্দ যুদ্ধ কি ? অলিন্দ যুদ্ধ কবে হয়েছিল ?

আজ সেই দিন। যেদিন রাইটার্স বিল্ডিং এর অলিন্দে

গর্জে উঠেছিল পিস্তল , আর অসমসাহসী তিন যুবকের

বীরত্ব ও আত্মত্যাগে স্তম্ভিত হয়েছিল ব্রিটিশ শাসক।

১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসুর নেতৃত্বে দীনেশচন্দ্র গুপ্ত ও বাদল গুপ্ত (Binoy Badal Dinesh history in bengali) ইউরোপীয় বেশ ভূষায় সজ্জিত হয়ে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং ভবনে অভিযান চালিয়ে কারা বিভাগের অত্যাচারী ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে খতম করেন। রাইটার্স বিল্ডিং-এর অলিন্দে পুলিশের সঙ্গে তাদের সেই অসম যুদ্ধে টেয়ানাম, প্রেন্টিস, নেলসন সহ আরো কিছু বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী গুরুতরভাবে আহতও হন। তবে এই  ক্ষণস্থায়ী সংঘর্ষে তিন বিপ্লবী পরাভূত হন। পূর্ব শর্ত অনুযায়ী পুলিশের কাছে ধরা না দেয়ার অভিলাসে বাদল গুপ্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। বিনয় ও দীনেশ পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মৃতপ্রায় দীনেশকে পুলিশ বাঁচিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। বিচারে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। হাসপাতালে ১৯৩০ সালের ১৩ই ডিসেম্বর বিনয়ের মৃত্যু হয়।

এর ৩৯ বছর পরে ১৯৬৯ সালের ৮ই ডিসেম্বর তদানীন্তন যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের ডালহৌসী স্কোয়ারের নাম বদলে " বিনয় বাদল দীনেশ"  বাগ (Binoy Badal Dinesh history in bengali) নাম রাখা ফলকের শিলান্যাস করেন। প্রসঙ্গত যে সেদিনের  রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের আগে তিন অসমসাহসী যুবক যার অনুমোদন নিয়েছিলেন সেই বিপ্লবী শ্রী হেমচন্দ্র ঘোষ 

সেদিনের ডালহৌসী স্কোয়ারের সভায় পৌরহিত্য করেন। অমর শহীদদের স্মরণে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।


অলিন্দ যুদ্ধের অন্যতম শহীদের নাম কি ? অলিন্দ যুদ্ধের ইতিহাস

অলিন্দ যুদ্ধ (writers alinda war) - 'রাইটার্স বিল্ডিং' আক্রমণ (৮ ডিসেম্বর, ১৯৩০)

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং বিপ্লবীত্রয়

শহীদ বিনয় কৃষ্ণ বসু ( Benoy Basu) (জন্মঃ- ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯০৮ - মৃত্যুঃ- ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৩০)

শহীদ বাদল গুপ্ত ( Badal Gupta) ( জন্মঃ- ১৯১২ - মৃত্যুঃ- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৩০ )

শহীদ দীনেশচন্দ্র গুপ্ত ( Dinesh Gupta ) (জন্মঃ- ৬ ডিসেম্বর, ১৯১১ - মৃত্যুঃ- ৭ জুলাই, ১৯৩১)


অলিন্দ যুদ্ধ (alinda war) কবে কোথায় সংগঠিত হয় ?

বিপ্লবীদের (Binoy Badal Dinesh history in bengali) এবারের অভিযান ছিল কলকাতার 'রাইটার্স বিল্ডিং' (writers building) আক্রমণ। অসংখ্য পুলিশ প্রহরী পরিবেষ্টিত দুর্ভেদ্য অফিস 'রাইটার্স বিল্ডিং'। এই ভবন আক্রমণ করে সেখান হতে ফেরার আশা কেউ করতে পারে না। বিপ্লবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা চলল কে এই আক্রমণ পরিচালনা করবেন? এই দুঃসাহসী অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন বিনয় বসু। তাঁর সঙ্গী হলেন আরো দুজন নির্ভীক যুবক। দীনেশ গুপ্ত ও বাদল গুপ্ত। কিশোর বয়স থেকেই বিনয় বসু, দীনেশ গুপ্ত ও বাদল গুপ্ত পরস্পর পরিচিত ছিলেন। কৈশোরকাল থেকে তিনজন দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশমাতার মুক্তিযজ্ঞে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেন। ঘটনাচক্রে এই তিন বন্ধুই একসঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণের দায়িত্ব নেন।

বিপ্লবী নেতারা (Binoy Badal Dinesh history in bengali) অনেক ভেবেচিন্তে তাঁদেরকে 'রাইটার্স বিল্ডিং' (writers building) আক্রমণ করার অনুমতি দেন। বিপ্লবী নেতারা স্থির করলেন ভারত সরকারের সরকারী অফিসের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী কেন্দ্রস্থল 'রাইটার্স বিল্ডিং' আক্রমণ করে দেখাতে হবে যে বিপ্লবীরা সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের একজনকে জেলে বন্দী করলে দশজন অগ্রসর হয়।

ওই বছর ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন আরো শতগুণে বেড়ে যায়। শত শত রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও বিপ্লবীদের গ্রেফতার করে জেলে আটক রেখে নির্যাতন চালায় তারা। এই সময় ব্রিটিশ পুলিশ সুভাষচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এবং সত্য বকসীর মতো নেতৃত্বকেও গ্রেফতার করে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে আটক রাখে। একের পর এক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে আলিপুর সেন্ট্রাল জেল ভরিয়ে ফেলা হচ্ছিল। এই সব বন্দীদের মধ্যে ছিলেন অসংখ্য সশস্ত্র বিপ্লবী দলের সদস্য এবং অহিংস আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকরা। একপর্যায়ে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে নতুন বন্দীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছিলনা । 

জেলের মধ্যে সৃষ্টি হলো এক অসহনীয় অবস্থা। রাজবন্দীদের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছিল। তাঁরা জেলকোড অনুযায়ী কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলন দমানোর জন্য ব্রিটিশ পুলিশ বেদমভাবে লাঠিচার্জ চালায়। রাজবন্দীরের উপর চলল নির্মম-নিষ্ঠুর অত্যাচার। সুভাসচন্দ্র, যতীন্দ্রমোহন এবং সত্য বকসীরাও বাদ গেলেন না নির্মম-নিষ্ঠুর অত্যাচার থেকে। এঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ল জেলের ভিতরে। জানা গেল এই নির্মম- নিষ্ঠুর অত্যাচারের পিছনে রয়েছে ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল এনএস সিম্পসন সাহেব।

বিপ্লবীদের টার্গেট ছিল কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনরেল লে. কর্নেল সিম্পসন। যিনি বসতেন 'রাইটার্স বিল্ডিং'-এ। জেলখানার বন্দীদের উপর পাশবিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিল সিম্পসন। তাই সিম্পসনের নাম হত্যাতালিকার শীর্ষে ছিল। সিম্পসনের পরে ছিল সেক্রেটারী মি. আলবিয়ানের নাম। আলবিয়ানের পর ছিল ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ মি. ক্রেগ ও জুডিসিয়াল সেক্রেটারী মি. নেলসনের নাম। এরা সবাই ছিল নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত পুলিশ অফিসার। স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের উপর এরা নানামাত্রিক অত্যাচার-নির্যাতন চালাতেন।


বিনয় বাদল দীনেশ রাইটার্স বিল্ডিং (writers building) অভিযান 


১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর 'রাইটার্স বিল্ডিং' (writers building) আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল। আক্রমণের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হল। খুব সতর্ক অবস্থায় তাঁদের প্রশিক্ষণের কাজও সমাপ্ত হল। বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দিনেশ গুপ্ত বিপ্লবী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বিদায় নিলেন। 

৮ ডিসেম্বর। তিন বিপ্লবী প্রস্তুত। ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। বয়স্ক রাতটা তারাদের হাত ধরে পুরানো বাসায় ফেরার তোড়জোড় করছে। কুয়াশায় ভেজা ফুটপাতে কৃষ্ণচূড়া ফুলের অলস শয্যা। ৭০নং পার্ক স্ট্রিট। বাড়ির দরজাটা নিঃশব্দে খুলে গেল। সুপ্ত শহরবাসীকে উদ্বিগ্ন না করে ধীর পায়ে বেরিয়ে এলেন বাদল গুপ্ত, দীনেশ গুপ্ত। কুড়ির কাছাকাছি বয়স। পরনে সামরিক সজ্জা। নিকুঞ্জ সেনের তত্ত্বাবধানে উঠে পড়লেন একটা ট্যাক্সিতে। ফাঁকা রাস্তায় ঝড়ের বেগে ছুটলো গাড়ি। খানিক বাদে পৌঁছলেন খিদিরপুর পাইপ রোডের নির্দিষ্ট স্থানে। অন্যদিকে, মেটিয়াব্রুজের রাজেন গুহের বাড়ি থেকে পথে নামলেন বিনয় বসু। রসময় শূরের সঙ্গে চলে এলেন পাইপ রোডে। তারপর বিনয়, বাদল, দীনেশ একসঙ্গে শুরু করলেন সেই ঐতিহাসিক যাত্রা। যা আজও শিহরণ জাগায় মনের অন্দরমহলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উধাও ঠাণ্ডার আমেজ। সময় গড়াচ্ছে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেই পরিচিত ব্যস্ততা। গাড়ি-ঘোড়ার দুড়দাড় দৌড়। অজস্র মানুষের হাঁকডাক। লালমুখো সাহেবরা লালবাড়িটাতে ঢুকছেন বেরোচ্ছেন। প্রতি গেটে সিপাহীদের কড়া পাহারা। অপরিচিতদের দেখলেই হাজারো জিজ্ঞাসাবাদ। এগারোটা নাগাদ মহাকরণের সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে এলেন তিনজন। ধীরে সুস্থে এগিয়ে গেলেন। রাস্তা পেরিয়ে চলে এলেন পশ্চিম গেটের সামনে। সান্ত্রীরা কোনো প্রশ্ন করলো না। তাদের সাহেবী পোশাক এবং চলন বলন দেখে কারো মনে কোনো সন্দেহ জাগেনি। মাথায় সুন্দর টুপি, গলায় ঝোলানো মাফলার। ইউরোপীয়দের মতো গটগট করে ঢুকে গেলেন। বিল্ডিংয়ে ঢোকামাত্রই তাঁদের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। চোখের দৃষ্টিতে প্রতিশোধের আগুন। অলস ভঙ্গি নিমেষে উধাও। তড়িৎগতিতে সিঁড়ি পেরোতে লাগলেন। তাঁদের লক্ষ্য বড় বড় আমলাদের ঘরের দিকে। কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল সিম্পসন এক মনে নিজের কাজ করছিলেন। ঘরে বসেছিলেন জ্ঞান গুহ। ঘূণাক্ষরেও টের পাননি কী ভীষণ বিপদ তাঁর সামনে। বেলা ঠিক ১২টা। সামরিক পোশাক পরে তিনজন বাঙালী যুবক এসে কর্নেল সিম্পসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা সিম্পসনের চাপরাশীকে (সহকারী) ঠেলে কামরার ভিতরে প্রবেশ করেন। হঠাৎ পদধ্বনী শুনে কর্নেল তাঁদের দিকে তাকান। বিস্ময়-বিমূঢ় চিত্তে দেখতে পান সম্মুখে মিলিটারী পোশাক পরে তিনজন বাঙালী যুবক রিভলবার হাতে দণ্ডায়মান। মুহূর্তের মধ্যে বিনয়ের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় 'প্রে টু গড কর্নেল। ইওর লাষ্ট আওয়ার ইজ কামিং।' কথাগুলি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে তিনটি রিভলবার হতে ছয়টি গুলি সিম্পসনের দেহ ভেদ করে। সিম্পসন লুটিয়ে পড়ে মেঝের উপর। এরপরই গুলির আঘাতে আহত হন জুডিসিয়েল সেক্রেটারী মি. নেলসন। এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করতে করতে আততায়ীরা পরবর্তী লক্ষ্য হোম সেক্রেটারী আলবিয়ান মারের কক্ষের দিকে অগ্রসর হন। ততক্ষণে এই আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ছুটে আসেন পুলিশ-ইন্সপেক্টর জেনারেল মি. ক্র্যাগ ও সহকারী ইন্সপেক্টর জেনারেল মি. জোনস। তাঁরা কয়েক রাউণ্ড গুলিও ছোঁড়েন। কিন্তু বিনয়-বাদল-দীনেশের বেপরোয়া গুলির মুখে তাঁরা দাঁড়াতে পারলেন না। প্রাণ নিয়ে পালালেন। সমস্ত 'রাইটার্স বিল্ডিং' জুড়ে তখন এক বিভীষিকাময় রাজত্ব। চারিদিকে শুধু ছুটাছুটি। কে কোন দিকে পালাবে খুঁজে পায় না। কলরব- কোলাহল- চিৎকার। শুধু এক রব 'বাঁচতে চাও তো পালাও'। 'রাইটার্স বিল্ডিং' আক্রমণের সংবাদ পেয়ে পুলিশ কমিশনার টেগার্ট আসেন। ডেপুটি কমিশনার গার্ডন আসেন সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে। জুডিসিয়েল সেক্রেটারী মি. নেলসন, মি. টয়নয় প্রমুখ অনেক ইংরেজ আহত হলেন। আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ডেকে আনা হল গুর্খা বাহিনীকেও। 


Read more...

দীনেশ গুপ্ত (Dinesh Gupta) জীবনী

কৈশোরে দীনেশ বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স (BV ) নামে গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনের সদস্য হন।  মেদিনীপুর শহরে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার সুপ্ত বাসনা ছিল তার মনে কিন্তু দলের নির্দেশে তাকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়েছিল বলে তিনি মেদিনীপুরে বিশেষ কিছুই পরে উঠতে পারেননি সেই সময়।

বিনয়-বাদল-দীনেশ কত খ্রিস্টাব্দে রাইটার্স বিল্ডিং দখল করেন

Binoy Badal Dinesh history in bengali : একদিকে তিনজন বাঙালী তরুণ, হাতে শুধু তিনটি রিভলবার। আর অপরদিকে রাইফেলধারী সুশিক্ষিত গুর্খাবাহিনী। আরম্ভ হল 'অলিন্দ যুদ্ধ'। ইংরেজ মুখপত্র 'স্টেটসম্যান' পত্রিকার ভাষায় 'বারান্দা বেটল'। দীনেশের পিঠে একটি গুলি বিদ্ধ হল। তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপও করলেন না। অসংকোচে গুলিবর্ষণ করতে লাগলেন শত্রুকে লক্ষ্য করে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিনয়-বাদল-দিনেশের হাতে গুলি ছিল, ততক্ষণ কেউ তাঁদের আক্রমণ করে প্রতিহত করতে পারেননি। একপর্যায়ে তাঁদের গুলি নিঃশেষ হল। গুর্খা ফৌজ অনবরত গুলিবর্ষণ করে চলল। তখন তিনজন বিপ্লবী একটি শূন্য কক্ষে প্রবেশ করে সঙ্গে আনা 'সায়নাইড'-বিষের পুরিয়াগুলি মুখে দিলেন। বিষ-ক্রিয়ায় অতি-দ্রুত জীবনপ্রদীপ নিবে না যাওয়ার আশংকায় এবং মৃত্যুকে নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যেকেই নিজ নিজ ললাট লক্ষ্য করে রিভলবারে রাখা শেষ গুলিটি ছুঁড়ে দিলেন। বাদল তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করেন। বিনয় ও দীনেশ সাংঘাতিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মেঝের উপর পড়ে রইলেন।

ভীষণভাবে আহত বিনয় ও দীনেশকে (Binoy Badal Dinesh history in bengali) একটু সুস্থ করে ইংরেজ বাহিনী তাঁদের উপর চালাল প্রচণ্ড অত্যাচার। এরপর উভয়কেই পুলিশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ কমিশনার টেগার্ট এতদিন পরে বিনয়ের উপর আক্রোশ মিটানোর সুযোগ পেলেন। অচেতন বিনয়ের হাতের আঙ্গুলের উপর বুট দিয়ে সবগুলি অঙ্গুল ভেঙ্গে ফেলে বীরত্ব প্রদর্শন করলেন।

বিনয় ছিলেন মেডিকেল স্কুলের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি জানতেন মৃত্যুর পথ। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি ১৪ ডিসেম্বর রাতে আকাঙ্খিত মৃত্যুকে বরণ করার জন্য মস্তিষ্কের 'ব্যাণ্ডেজে'র ভিতর অঙ্গুল ঢুকিয়ে স্বীয় মস্তিষ্ক বের করে আনেন এবং মৃত্যুকে বরণ করে নেন। অন্যদিকে ডাক্তার ও নার্সদের আপ্রাণ চেষ্টায় দীনেশ ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠেন। সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে কনডেমড সেলে নেয়া হয়। তারপর দীনেশের বিচারের জন্য আলীপুরের সেসন জজ মি. গ্রালিকের সভাপতিত্বে ব্রিটিশ সরকার এক ট্রাইবুনাল গঠন করে ফাঁসির আদেশ দেয়। ১৯৩১ সালের ৭ জুলাই দীনেশের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 

ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে বিনয়-বাদল-দীনেশের (Binoy Badal Dinesh history in bengali) নামানুসারে কলকাতার ডালহৌসি স্কয়ারের নাম পাল্টে রাখা হয় বি-বা-দী বাগ। অর্থাৎ বিনয়-বাদল- দীনেশ বাগ। 

নবীনতর পূর্বতন