Ramna Kali Mandir : ভারতের সাহায্যে পুনঃ প্ৰতিষ্ঠিত হল ঢাকার বিখ্যাত জাগ্রত রমনা কালী বাড়ি (ইতিহাস)

 Ramna Kali Mandir : পুনঃ প্ৰতিষ্ঠিত হল ঢাকার বিখ্যাত জাগ্রত রমনা কালী বাড়ির ইতিহাস 

ramna kali mandir dhaka bangladesh history
ramna kali mandir dhaka bangladesh history 


"ওগো ও আঙিনা, ভুলিনি তো আমি ,
হেথায় নতুন বধূ হেসেছিলাম পাশে ছিল স্বামী
উলু ছিল শঙ্খ ছিল- ছিল হাসি গান 
কানায় কানায় ভরা ছিল আনন্দেরই বান।
আজ নীরব সবই, মৌন সবই
শব্দ কোথাও নাই, আমার বুকের দীর্ঘনিশ্বাস শুনতে যেন পাই। "


কেমন ছিল প্রিয় রমনা কালীবাড়ি (ramna kali mandir dhaka bangladesh history )- জয় মা কালী 


Ramna Kali Mandir : দীর্ঘনিশ্বাস বুকে নিয়ে বাংলাদেশের শতবছর ধরে বুকভরা হাহাকার নিয়ে ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী ঢাকার বিখ্যাত রমনা কালী বাড়ি। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ জেহাদিরা রমনা কালিবাড়ী মন্দির ও শ্রীশ্রীআনন্দময়ী আশ্রম-এ আক্রমন করে। তাদেরে আক্রমনে মন্দির, আশ্রম সহ মন্দির প্রাঙ্গনের অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয়। এই জেহাদী বাহিনী মন্দির ও আশ্রমটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয় রমনা কালীমন্দিরের তৎকালীন অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পরমানন্দ গিরি সহ মন্দির ও আশ্রম প্রাঙ্গনে উপস্থিত প্রায় ১০০ জন নারী ও পুরুষকে তারা সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের বর্রবরতা থেকে সেদিন নিষ্পাপ শিশুরাও রেহাই পায়নি। 

মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বছরেরও পুরাতন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরস্থ রমনা পার্কের (যার বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বহির্ভাগে দক্ষিণ দিকে মন্দিরটি অবস্থিত। রমনা কালী মন্দির ও শ্রীশ্রীআনন্দময়ী আশ্রম ২.২২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। জনশ্রুতি আছে প্রায় ৫০০ বছর আগে বদরীনাথের যোশীমঠ থেকে গোপালগিরি নামে এক উচ্চমার্গের সন্ন্যাসী প্রথমে ঢাকায় আসেন এবং সাধন-ভজনের জন্য রমনা উপযুক্ত স্থান বিবেচনায় এখানে শ্রীমৎ গোপাল গিরি একটি আখড়া স্থাপন করেন। তখন এ আখড়া কাঠঘর নামে অভিহিত হত। কিন্তু বর্তমানে সেই স্থান অনেক ছোট হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের অবহেলার ফলে। 

প্রাচীর ঘেরা মন্দিরে একটি সুদৃশ্য কাঠের সিংহাসনে স্থাপিত ছিল ভদ্রকালীর মূর্তি। এই মূর্তির ডানদিকে ছিল ভাওয়ালের কালী মূর্তি। মন্দিরের উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিমে ছিল পূজারী, সেবায়েত ও ভক্তদের থাকার ঘর। পাশে একটি শিব মন্দিরও ছিল। ছিল একটি নাটমন্দির ও সিংহ দরজা। 

Ramna kali mandir dhaka bangladesh history 
ঢাকার বিখ্যাত জাগ্রত রমনা কালী বাড়ি ইতিহাস



শ্রীশ্রী মা আনন্দময়ী মায়ের স্বামী শ্রী রমনীমোহন চক্রবর্তী ঢাকার নবাবদের শাহবাগ বাগানে তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেই সূত্রে শ্রীশ্রী আনন্দময়ী মা রমনাতে মন্দিরের পাশেই অবস্থান করতেন। শ্রীশ্রীআনন্দময়ী মা আধ্যাত্মিক শক্তির ধারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন এবং  পূজিত হন। শ্রীশ্রীমা দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান করেন। শ্রীশ্রীমায়ের পদধূলিসমৃদ্ধ পূণ্য-ভূমি এবং অসংখ্য লীলাক্ষেত্র এই রমনা। ফলে শ্রীশ্রীমায়ের পরমভক্ত ও পার্ষদ ভাইজী ও গুরুপ্রিয়াদিদি সহ প্রচুর ভক্ত প্রতিদিন শ্রীশ্রীমাকে দর্শন করতে যান। পরবর্তীতে শ্রীশ্রীমায়ের ভক্তগণ রমনা ও সিদ্ধেশ্বরীতে দুটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা রমনা কালী মন্দিরের উত্তর পাশে শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। রমনায় শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমের প্রবেশদ্বার ছিল পূর্বদিকে। পশ্চিম দিকে ছিল একটি নাট মন্দির। এর উত্তর দিকের একটি কক্ষে সংরক্ষিত ছিল শ্রীশ্রীমা আনন্দময়ীর পাদপদ্ম। মন্দিরের বেদীর উপর স্থাপিত ছিল বিষ্ণু ও অন্নপূর্ণা বিগ্রহ। 
কালীমন্দির ও আশ্রম প্রাঙ্গণে সন্ন্যাসী,পূজারী ও ভক্ত ছাড়াও সাধারণ কর্মজীবি অনেকেই তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করতেন এবং নিয়মিত মন্দির ও আশ্রমের অনুষ্ঠানাদিতে অংশ নিতেন।

ভারত সরকারের প্ৰচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঐকান্তিক ইচ্ছায় এবং প্রায় ৭ কোটি টাকার অনুদানে আজ আবার পুনঃ প্ৰতিষ্ঠিত হলো ঢাকার রমনা কালী বাড়ি। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ দ্বারা ১৭ই ডিসেম্বর ২০২১ সালে নব  রমনা কালী বাড়ির উদ্ঘাটন করা হয়। 

 যে ইংরেজ শাসনের থেকে স্বাধীনতা পেয়েও শুধুমাত্র দুটো ধর্ম বিদ্বেষে এক বাংলা দু ভাগ হয়ে গেল। উন্নতি আটকে গেল। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল কোন বাংলার আসলে সেই নিয়ে আজও ধর্মীয় বিদ্বেষ। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখীবন্ধন শুরু করেছিলেন আর কাজী নজরুল কলকাতার বহু শ্যামা মায়ের মন্দিরে বসে শ্যামা সঙ্গীত রচনা করেছেন সেখানে দুই দেশ শুধু ধর্ম বিদ্বেষে আর অপপ্রচারে একে অন্যকে দোষ দিচ্ছে। 

যদি লেখা ভালো লাগে অবশই শেয়ার করুন।  নিজের মতামত দিন
নবীনতর পূর্বতন