বাঙালিরা কেন দেখতে যাবেন THE KASHMIR FILES | রিভিউ | the kashmir files review in bengali

 কেন দেখতে যাবেন THE KASHMIR FILES  

THE KASHMIR FILES দ্যা কাশ্মীর ফাইল



রেটিং: ৯.৫/১০

তিক্ত সত্যকে কখনো কখনো মিথ্যে বলেই মনে হয়। আমাদের অবচেতন বারবার বলতে থাকে, ‘না, এমনটা হওয়া অসম্ভব’। কিন্তু সেই মুহূর্তে পর্দায় ফুটে ওঠে অসহায়ের আর্তনাদ। আপনি বারবার নিজেকে প্রবোধ দিতে থাকেন, “আরে, এ তো শুধুই গল্প...সিনেমা...কল্পনা...”

কিন্তু বারবার খোঁচা দিয়ে যায় সেই কয়েকটা স্লোগান। সেই কয়েকটা স্লোগান, যা আপনি জানেন সত্যিই ছিল তা। সেই স্লোগান দিয়েই কাশ্মীরের হিন্দুদের জাস্ট শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। না... সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। সারভাইভ করেছে তারা। তীব্র অপমান... বর্বরতম অত্যাচারের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হতে হতে তারা দেখেছে সেকুলার সিস্টেম কিভাবে বর্বরদের শয্যাসঙ্গিনী হয়েছে। একজন কিশোর সারভাইভার, যে তার পরিবারের পুরুষদের মরতে দেখেছে, যে তার পরিবারের মহিলাদের ওই বর্বর কুকুরদের শিকার হতে দেখেছে; সে সেক্যুলার স্টেটের মেশিনারির কাছে শুনেছে “চুপ...তুমি কিছুই দেখোনি...এ সবই গল্পকথা...”। এক বৃদ্ধা তাঁর সম্পূর্ণ পরিবারকে হারিয়েও শুনতে বাধ্য হন “এসব বলতে নেই...জানেন না আমরা সেকুলার...”
এই সেকুলার সিস্টেমকে, তার ইsলামোফিলিক সঙ্গিনীদের বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে একটি মুভি। 

ঠিক এই কারণেই, এই কারণেই সিনেমা তৈরির কথা শুরু হতেই নখদন্তসহকারে ঝাঁপিয়ে পড়লো পুরো ইsলামোফিলিক মেশিনারি। “...চুপ... সত্যি কথা বলতে নেই। যত খুন, যত ধর্ষণ, যত অত্যাচার...সব কিছুই যেহেতু আমাদের ভাইরাই করেছে, তাই ওসব বলতে নেই...”

ঠিক এই জন্যই দেখা উচিত সিনেমাটি। এতদিনের প্রোপাগান্ডা মেশিনারির চালিয়ে আসা ‘ফিকশনাল হারমনি’কে চ্যালেঞ্জ করে এই সিনেমা। 

না। মুভিটি মোটেও সুখকর নয়। মেলোড্রামা নেই, ফরেন লোকেশনে দারুন দারুন মিউজিক নেই, কমিক রিলিফ নেই। 
👇WATCH THIS VIDEO - MITHUN CHAKRABORTY 👇

তবে আছে অসাধারণ অভিনয়। মৃগয়া মুভির পর এই বয়সে মিঠুনদার এমন অভিনয় বোধহয় কেউই এক্সপেক্ট করেনি। আর অনুপম খের... তিনি বোধহয় নিজেও ‘অভিনয়’ করেননি। অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। বাকিরাও ভালো। কিন্তু সত্যি বলতে কী, এই দুজনের থেকে চোখ সরানো যায় না। 
ক্যামেরার কাজ সত্যিই দুর্দান্ত। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সব তুলনায় সামান্য দুর্বল।

গল্প নিয়ে বলার কিছু নেই। কারণ, এটি নতুন কোনো গল্প নয়। খুবই এক্সপেক্টেড এক ট্রু ইনসিডেন্টের বর্ণনা। 

দেখুন। পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহে। ওটিটি নিয়ে বলতে পারছি না, তবে মোস্ট প্রবাবলি জি ফাইভে আসতে পারে। তবে এতদিন অপেক্ষা না করে একবার বড় পর্দায় দেখেই নিন।


প্রণব সেনগুপ্ত রিভিউ 

#TheKashmirFiles 
THE KASHMIR FILES দ্যা কাশ্মীর ফাইল : বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী (vivek agnihotri) হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন ইনিই সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত এবং বহুল চর্চিত THE KASHMIR FILES দ্যা কাশ্মীর ফাইল এর পরিচালক। তবে এই সিনেমা'র মাধ্যমেই যে তিনি নিজের চিন্তাধারা এবং ভাবমূর্তি কে এক রাষ্ট্রবাদী পরিচালক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন তা নয়। এর আগেও THE TASHKENT FILES(2019) ছায়াছবির মাধ্যমেই তিনি নিজের চিন্তাধারা এবং অতিঅবশ্যই প্রকৃত সত্য কে আপামর দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার বলিষ্ঠ এবং সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। শুধুমাত্র একটি 2-3 ঘন্টার বিনোদনমূলক ছায়াছবির চিন্তাধারা নিয়ে টাকা খরচ করে বড় বড় স্টারদের নিয়ে টাকা কামানোর বিলাসিতা দেখান নি বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী। দেশের বর্তমান এবং পরবর্তী তার পরবর্তী প্রজন্ম কে সঠিক তথ্য সহযোগে বিকৃত ইতিহাস কে সঠিক পথে আনার সম্পূর্ণ প্রয়াস তিনি করেছেন। হতে পারে ওনার ছবিগুলি তে বর্তমান প্রজন্মের নামি-দামি স্টারকাস্ট নেই ঠিকই হয়তো বা সঠিক অর্থে বিনোদনমূলকও নয় কিন্তু যে প্রচেষ্টা যে সাহসের পরিচয় তিনি দিয়েছেন সেটা সত্যিই চরম বাহবাযুক্ত। আজ ওনার সৃষ্টির কদর না হলেও ওনার সৃষ্টি আগামী দিনে মাইলস্টোন হতে চলেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে। 


লালবাহাদুর শাস্ত্রী :-  ভারতবর্ষের দ্বিতীয় এবং প্রথম গোমাতা ভক্ত প্রধানমন্ত্রী। "জয় জওয়ান জয় কিষাণ" এই বহুল ব্যবহৃত স্লোগানের সৃষ্টিকর্তাও পন্ডিত লালবাহাদুর শাস্ত্রী। কিন্তু পাকিস্থান কে যুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করার পরেও এই মানুষটি কে 1966 সালের 10ই জানুয়ারী অধুনা উজবেকিস্তান(সোভিয়েত ইউনিয়ন) এর রাজধানী তাসখন্দে পাকিস্থানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি তে কেন সই করতে হয়েছিল যাহা কার্যতই ছিল সমগ্র দেশবাসীর কাছে নৈতিক পরাজয় কারন পাক অধিকৃত কাশ্মীর কে এই চুক্তির দ্বারাই উপহারস্বরূপ পাকিস্থান কে প্রদান করা হয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নই মূলত এই চুক্তির মূল মধ্যস্থতাকারী সঙ্গে KGB। এবার প্রসঙ্গে আসা যাক কি এই KGB ? The KGB --- 'Committee for State Security' was the main security agency for the Soviet Union from 13 March 1954 until 3 December 1991. যেমন আমেরিকার CIA তেমনি রাশিয়ার KGB। কার্যত এরা এমনই গোয়েন্দাসংস্থা যারা পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশের মধ্যে নিজেদের বেতনভোগী এজেন্টদের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এবং দেশের সমস্ত রাজনৈতিক ওঠানামা এদের নির্দেশই হয়ে থাকে। পন্ডিত লালবাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দ চুক্তি শেষে দেশবাসীকে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি দেশে ফিরে দেশবাসীকে কিছু সত্য প্রকাশ করবেন। কি সেই সত্য ? KGB এর গোপন ডায়েরিতে VANO কোড নামের মূল এজেন্ট টি আসলে কে ? পলিটব্যুরো তেই বা কত টাকা পাঠানো হয়েছিল এবং কত এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছিল এদেশের রাজনীতি কে প্রভাবিত করার জন্য ? VANO আসলে কে যাকে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর আগে টাকা ভর্তি একটি কালো স্যুটকেস উপহার দিয়েছিল KGB। কেন রাশিয়ান পুলিশ সেইসময় লালবাহাদুর শাস্ত্রী কে বিষ দেওয়ার অপরাধে তার খানসামা "জান মহম্মদ" কে গ্রেফতার করেও কারুর নির্দেশে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ? শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং দীনয়াল উপাধ্যায় এর মৃত্যুর সঠিক তথ্য কেন সুনিপুণ ভাবে চেপে দেওয়া হয়েছিল ? আগে সত্য কে কখনই সামনে আনা হয় নি কিন্তু এই ছায়াছবির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য কে তুলে ধরার সামগ্রিক সাহস দেখিয়েছেন বিবেক রঞ্জন অভিনেত্রী। 
                                 👇WATCH THIS VIDEO - MITHUN CHAKRABORTY 👇



আমি নিশ্চিত THE TASHKHENT FILES যারা দেখেছেন বা আগামী দিনে আমার এই প্রতিবেদনের পর যারা দেখবেন তাদের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক চরিত্রগুলির উপর ঘৃণা আসতে বাধ্য। বাস্তবিক ভাবে এটা সত্য যে 2nd October সারাদেশে মহা ধুমধামে গান্ধী BIRTHDAY পালিত হলেও একই দিনে যে পন্ডিত লালবাহাদুর শাস্ত্রীজিরও জন্মদিবস সেটা আমরা কয়জনই বা মনে রাখতে পেরেছি ? মোদ্দা কথা আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক সুনিপুণ কৌশলে। এমনই অনেক প্রশ্ন পাবেন এই ছায়াছবিতে কিন্তু উত্তর খোঁজার দায়িত্ব সাধারণ দেশবাসীর উপরই ছেড়েছেন পরিচালক। পরিশেষে অতিঅবশ্যই এই সিনেমার সব থেকে বড় সম্পদ উপরি পাওনা হিসেবে বাংলার গর্ব মিঠুন চক্রবর্তীর অসাধারণ অসামান্য সাবলীল অভিনয়। 
                                                      👇WATCH THIS VIDEO 👇




THE TASHKENT FILE'S যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই THE KASHMIR FILES এর মত সত্যের অন্বেষণ নিয়ে আরেকটি মাইলস্টোন ফলক দেশবাসীকে দিলেন উপহার পরিচালক বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী যদিও THE TASHKENT FILES এর ঝুলিতে National Film Award for Best Screenplay - Dialogues জুটেছে ঠিকই কিন্তু পরিচালকের এই প্রয়াস কে কুর্নিশ জানানোর জন্য অবশ্যই দেখা উচিত দুটি ছায়াছবিই।

'দ্য কাশ্মীর ফাইলস রিভিউ- 


the kashmir files review in bengali  :  'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কৃষ্ণা পণ্ডিত। তাঁর দাদা পুষ্কর নাথকে 1990 সালে কাশ্মীর ছাড়তে হয়েছিল। আজও তার স্বপ্ন সে যেন একবার তার ঘরে ফিরে যেতে পারে। কৃষ্ণা দিল্লির ENU নামে একটি শীর্ষ কলেজে পড়াশোনা করে। তিনি কলেজ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। বটম লাইন হল যে তিনি যা শুনেছেন তা বিশ্বাস করার পরিবর্তে, কৃষ্ণ নিজেই কাশ্মীরে যান এবং সেখানে কী ঘটছে তা দেখেন। এই সময়ে, তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য সম্পর্কে জানতে পারেন, যা জীবন এবং কাশ্মীরের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে।

ছবিতে, অনুপম খের পুষ্কর নাথ নামে একজন কাশ্মীরি পণ্ডিতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সেই বর্বর এক্সোডাসের শিকার হয়েছিলেন। এই চরিত্রটি তার খুব কাছের মনে হয়। তিনি নিজে একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত। এবং আবেগঘন দৃশ্যে, তিনি কাশ্মীরি ভাষায় কথা বলেন, যা তার চরিত্রকে খাঁটি করতে সাহায্য করে। তাঁর নাতি কৃষ্ণের ভূমিকায় রয়েছেন দর্শন কুমার। ছবির কয়েকটি সিক্যুয়েন্সে দর্শনকে একজন কলেজ ছাত্রের চরিত্রে দেখা যায়। যদিও তাদের মনে হয় কলেজের ছাত্র নয়। ছবির ক্লাইম্যাক্সে তার অংশে একটি দীর্ঘ বক্তৃতা আসে। যেটিতে তারা সুন্দর দেখাচ্ছে।

পল্লবী যোশী রাধিকা মেনন নামে ENU অধ্যাপকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ENU হল JNU-এর মতোই একটি নাম। একটি দৃশ্যে, রাধিকা মেননের চরিত্র কৃষ্ণকে পরামর্শ দেয় যে প্রতিটি গল্পে একজন ভিলেন আছে। এই গল্পে ভিলেন রাধিকা মেননকে তৈরি করা হয়েছে। এখানে এটি পরিচালকের দৃষ্টিকোণ বা আদর্শ হয়ে ওঠে। কারণ তিনি যদি আদর্শের ভিত্তিতে কাউকে ভিলেন হিসেবে তুলে ধরেন, তাহলে যে কোনো বিষয়েই এই কাজ করা যেতে পারে।

এই তিনটি ছবির প্রাথমিক চরিত্র। এরা ছাড়াও ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রকাশ বেলওয়াড়ি, পুনীত ইসার এবং অতুল শ্রীবাস্তব। তিনি পুষ্কর নাথের চার বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই চার বন্ধুর কাজ হল কৃষ্ণকে বলা যে সত্যিই তার বাবা-মায়ের কী হয়েছিল। মানে কিভাবে মারা গেল।

'দ্য কাশ্মীর ফাইলস'-এর ভাল জিনিস হল যে তিনি তার বর্ণনা সম্পর্কে খুব উত্সাহী, তবে এটি করার সময়, তিনি নৈপুণ্যের দিকে খুব বেশি মনোযোগ দেন না। অর্থাৎ সিনেমায় আপনি কোনো এক্সপেরিমেন্ট খুঁজে পান না। চিত্রনাট্যের টেক্সচার অসাধারণ নয়। আপনি এটিকে চিকিত্সার স্তরে একটি খুব অনন্য চলচ্চিত্র বলতে পারবেন না। তিনি তার কথায় পার্থক্য আনতে মৌলিক সিনেমা টুল ব্যবহার করেন। উদাহরণস্বরূপ, ছবিতে একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে 25 জনকে শ্যুট করা হয়েছে। 25টির এই 25টি বুলেট আমাদের পর্দায় দেখানো হয়েছে। যাতে দর্শক চাইলেও তা ভুলতে না পারে।

কাশ্মীর ফাইলগুলি আবেগের সাথে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সমস্যাটিকে বড় পর্দায় খোদাই করেছে। কিন্তু ফিল্ম ধূসর হয়ে জিনিস বের করার চেষ্টা করে না। এখানে সবকিছু কালো বা সাদা রাখা হয়েছিল। 


🙏  প্রণব সেনগুপ্ত

Read other(নিচের লিংকে ক্লিক করে বিদ্যাসাগর সম্পর্কে পড়ুন) 👇

নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ছোট্ট একটা অনুরোধ। লেখাটি যদি ভালো লাগে। তাহলে লিংকটি বন্ধুদের শেয়ার করুন. কারণ এটি শেয়ার করতে আপনার মাত্র এক বা দুই মিনিট সময় লাগবে। তবে এটা আমাদের জন্য উৎসাহ ও সাহস যোগাবে। যার সাহায্যে আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে আসব এমন সব নতুন কথা। আর আপনিও লিখতে পারেন আমাদের সাইট - মেইল করুন - thepointbangla@gmail.com


নবীনতর পূর্বতন